এসআইআর (Special Intensive Revision) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়ন করার নির্দেশ দিয়ে বুধবার ভারতের নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে (West Bengal Chief Electoral Officer) চিঠি দিয়েছে।

এসআইআর (Special Intensive Revision) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়ন করার নির্দেশ দিয়ে বুধবার ভারতের নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে (West Bengal Chief Electoral Officer) চিঠি দিয়েছে। কমিশনের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আদালতের নির্দেশ মেনে আনম্যাপড ভোটার এবং লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ও আনম্য়াপড-র আওতায় থাকা ভোটারদের নাম প্রকাশ করা হবে। ২৪ জানুয়ারির মধ্যে এই নামগুলি প্রকাশ করা হবে। এই নাম দেখা যাবে গ্রাম পঞ্চায়েত ভবন থেকে শুরু করে প্রতিটি সাবডিভিশন ও ব্লক অফিসে। এছাড়া শহর এলাকায় ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রকাশিত হবে এই সব তালিকা। নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে যে, এই দুটি বিভাগে থাকা ব্যক্তিরা তাঁদের অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে নথি এবং আপত্তি জমা দিতে পারবেন। একজন বুথ লেভেল এজেন্ট (বিএলএ)ও অনুমোদিত প্রতিনিধি হতে পারেন। সেক্ষেত্রে প্রতিনিধির কাছে ভোটারের অথোরিটি লেটার থাকতে হবে। চিঠির তলায় করতে হবে সই ও টিপসই।

নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকার প্রতিটি অংশের জন্য একটি গ্রাম পঞ্চায়েত ভবন, ব্লক অফিস বা ওয়ার্ড অফিস নির্ধারণ করতে বলেছে, বিশেষ করে ভোটকেন্দ্র এলাকার মধ্যে বা তার কাছাকাছি, নথি জমা দেওয়ার জন্য। তালিকা নিয়ে কারও আপত্তি থাকলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ১০ দিনের মধ্যে জানাতে হবে। ব্যক্তিরা নির্ধারিত পঞ্চায়েত ভবন, ব্লক অফিস বা ওয়ার্ড অফিসে নথি এবং আপত্তি জমা দিতে পারেন। মাধ্যমিকের শংসাপত্রের পাশাপাশি গ্রহণ করা হবে অ্যাডমিট কার্ডও। অবশ্যই তাতে জন্মের তারিখের উল্লেখ থাকতে হবে। এখানেই শেষ নয়, শুনানির পর প্রাপ্তিস্বীকার করে রসিদ দেওয়ার জন্য ইআরও এবং এইআরওদের নির্দেশও জারি করেছে কমিশন। একই সঙ্গে এই শুনানি প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত কর্মী ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে রাজ্যের ডিজিপি, মুখ্যসচিব ও কলকাতার সিপি-কে নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। রাজ্য় পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার, প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপার এবং জেলাশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, শুনানির স্থানে কোনও আইনশৃঙ্খলার সমস্যা যাতে না হয় এবং এসআইআর-সম্পর্কিত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়। নির্দেশাবলী অমান্য করা হলে বা এসআইআর কার্যক্রমে কোনও ব্যাঘাত ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে কমিশন।

এদিকে, অন্তত দু’সপ্তাহ পিছিয়ে যেতে পারে রাজ্যে এসআইআরের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন। কমিশন সূত্রে এমনটাই খবর। আর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন পিছিয়ে গেলে পিছিয়ে যেতে পারে রাজ্যে বিধানসভা ভোটও। কমিশনের আগের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শুনানি শেষ করার নির্ধারিত সময়সীমা ৭ ফেব্রুয়ারি। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের কথা ১৪ ফেব্রুয়ারি। সূত্রের খবর, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আপাতত ১৭ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শুনানি শেষ করার টার্গেট নেওয়া হয়েছে। ২৫ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে। তবে সেটা আদৌ হবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ পিছিয়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ নির্ধারণে তার প্রভাব পড়বে। ৫ মে’র মধ্যে রাজ্য বিধানসভায় পরবর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। অন্যথা জারি করতে হবে রাষ্ট্রপতি শাসন।