শাহাজাহান আলি, ঝাড়গ্রাম:  'ঘরে' এসেও মিলছে না 'ঘর'। খোদ ঝাড়গ্রামে নিজের গ্রামেই ঢুকতে পারছেন না ভিন রাজ্য় থেকে ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকরা। লোকালয় তো দূর, গ্রামের ফাঁকা স্কুলেও থাকতে দেওয়া হচ্ছে না তাদের। বাধ্য় হয়ে হাতি,সাপ, নেকড়ের বসত জঙ্গলের পাশেই এখন কোয়ারান্টাইন জীবন কাটাতে হচ্ছে ওই শ্রমিকদের। বিষয়টি নিয়ে গ্রামবাসীদের বোঝানের চেষ্টা শুরু করেছেন প্রশাসনের আধিকারিকরা ৷ কিন্তু নাছোড়বান্দা গ্রামবাসীদের  বোঝাতে পারছেন না কেউ।

জঙ্গলমহলের ঝাড়্গ্রাম গ্রিন জোন থাকলেও হঠাৎ করে করোনাতে কয়েকজন আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই জেলা জুড়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। আতঙ্কিত বিভিন্ন স্থানের গ্রামবাসীরা বহিরাগতদের দেখলেই আঁতকে উঠছেন ৷ তাই বাইরে থেকে শ্রমিকরা বাড়ি ফিরতেই আশ্রয় দিতে চাইছেন না লোকালয়ে ৷ গ্রাম থেকে দুরে তাদের থাকার জন্য বলা হচ্ছে।বাধ্য হয়ে এমন বহু শ্রমিক গ্রামের পাশে জঙ্গলে ত্রিপলের তাঁবু তৈরি করে আশ্রয় নিয়ে রয়েছেন গত দুদিন ধরে ৷  এমন চিত্র দেখা গিয়েছে- ঝাড়গ্রাম জেলার শিলদা, বেলপাহাড়ি, এড়গোদা এলাকাতে ৷   

এ বিষয়ে এড়গোদা অঞ্চলের জয়পুরের ফুলবহড়া গ্রামের কল্যাণ মাহাতো বলেন "আমি ১০ মে ঝাড়খণ্ড থেকে ফিরেছি। স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পরীক্ষার জন্য গিয়েছিলাম ।আমাকে বাড়িতে থাকতে বলা হয়েছে।কিন্ত স্থানীয় লোকজন আমাকে বাড়িতে থাকতে দিচ্ছে না।ফাঁকা জায়গায় ত্রিপল টাঙিয়ে দিয়েছে।সেখানে থাকতে বলা হচ্ছে।আমি বলেছি প্রশাসনের ব্যবস্থায় গ্রামের স্কুলে আমাকে রাখা হোক।ফাঁকা জায়গাতে থাকার ভয় আছে।কিন্তু আমাকে জোর করা হচ্ছে  গ্রামের লোকজনের পক্ষ থেকে।" এমন পরিস্থিতি অনেক স্থানেই ৷ 

এদিকে ঝাড়গ্রামের মানচিত্র বলছে, যেখানে ওই শ্রমিকরা রয়েছেন, ওই সমস্ত জঙ্গলে রয়েছে প্রায়শই নেকড়েবাঘ , হাতি, সাপের দেখা পাওয়া যায়। এছাড়াও ঝাড়গ্রাম জেলায় সারা বছর ধরেই রয়েছে দলমার দামালেরা এবং স্থায়ী হাতি।এই পরিস্থিতিতে ভিন রাজ্য বা জেলা ফেরত ওইসব মানুষগুলির অনেকেই জঙ্গলে থাকতে চাইছেন না।তাদের বক্তব্য, তাদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা হোক।