শাজাহান আলি, মেদিনীপুর: অস্ত্রোপচারে ভয়? প্লাস্টার করা হাতে পাইপ বেয়ে হাসপাতালে পালানোর চেষ্টা করলেন রোগী! তবে শেষরক্ষা অবশ্য হয়নি। দমকলের সাহায্যে নিরাপদে ওই রোগীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ঝাড়গ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে।

আরও পড়ুন: বিশ্বভারতীতে করোনা আতঙ্ক, কেন্দ্রীয় অফিস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কর্তৃপক্ষের

ঘটনাটি ঠিক কী? ঝাড়গ্রামের জামবনি এলাকার বাসিন্দা সুদর্শন দণ্ডপাট। দিন কয়েক আগে গাছ থেকে পড়ে যান। দুর্ঘটনার হাত ভেঙে যায় তাঁর। ভাঙা হাতে প্লাস্টারও করে দেন স্থানীয় এক চিকিৎসক। সোমবার সকালে যখন প্লাস্টার করা হাত দিয়ে ঝাড়গ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে আসেন, তখন সুদর্শনকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান চিকিৎসকরা। অস্ত্রোপচার করা হবে না তো? সম্ভবত ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন ওই রোগী। অপারেশন থিয়েটার থেকে পালিয়ে সোজা চলে যান হাসপাতালের পাঁচতলা ছাদে। এরপর প্লাস্টার করা হাতে পাইপে নিচে নামতে শুরু করেন তিনি। রাস্তা থেকে সেই দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে পথ চলতি মানুষ। হাসপাতালের বাইরে ভিড় জমান অনেকেই।

আরও পড়ুন: শহিদ তর্পণে মুছে গেল রাজনৈতিক ভেদাভেদ, চোখের জলের ঘরের ছেলেকে বিদায় জানাল সবং

এদিকে সুদর্শনকে উদ্ধার করতে ততক্ষণে ছাদে উঠে যান হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীদের কয়েকজন। খবর দেওয়া হয় দমকলে। রোগীকে পাইপের কাছে আটকে দেওয়া হয়। কিন্তু নিরাপদে কীভাবে উদ্ধার করা হবে? প্রথমে তা বুঝে উঠতে পারছিলেন দমকলকর্মীরা। শেষপর্যন্ত ছাদের গিয়ে সুদর্শনের দিকে দড়ি ছুঁড়ে দেন তাঁরা এবং দড়িটি কোমরে বেঁধে দিতে নিতে বলেন। এবার আর কোনও গন্ডগোল পাকাননি, দমকল কর্মীদের নির্দেশ মেনে কোমরে দড়ি বেঁধে ছাদে উঠে আসেন সুদর্শন দন্ডপাট। হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন সকলেই। কোনও চোট লাগেনি, তিনি সুস্থই আছেন বলে জানিয়েছেন ঝাড়গ্রাম জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রকাশ মৃধা।