রবিবার সকালে ঝাড়গ্রাম জেলার লালগড় থানার অন্তর্গত লক্ষণপুর গ্রামের বাসিন্দারা গ্রামের পাশে রাস্তায় ও চাষের জমিতে বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পেয়েছিলেন। পুরনো বাঘের পায়ের ছাপের সঙ্গে সাদৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন গ্রামবাসীরা। একই ধরনের পায়ের ছাপ দেখে আগে ২০১৮ তে বাঘের উপস্থিতি নিশ্চিত করে দিয়েছিলেন গ্রামবাসীরা। এবারও গ্রামবাসীরা একইরকম পায়ের ছাপ দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

বনদপ্তরে খবর দিলে রবিবার সারাদিন ঝাড়গ্রামের বন আধিকারিকরা তদন্ত করেছেন পায়ের ছাপগুলো নিয়ে। একই রকম পায়ের ছাপ বাঁকুড়া জেলাতেও পাওয়া গিয়েছে বলে বনকর্মীরা জানতে পেরেছিলেন। রবিবার সারাদিন সব কিছু দেখার পর সোমবার বনদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়  যে এগুলি বাঘেরই পায়ের ছাপ। তবে এবার লালগড়ের জঙ্গলে বাঘিনী এসেছে বলে অনুমান বন দপ্তরের। সঙ্গে একটি ব্যাঘ্র শাবক রয়েছে বলে বনদপ্তরের কর্তাদের অনুমান।

এই ঘটনার পরই লালগড়ে বাঘ ধরতে জঙ্গলে খাঁচা পাতার প্রস্তুতি শুরু করেছে বন দফতরের আধিকারিকরা। সুন্দরবন থেকে বিশেষজ্ঞ দলকেও ডাকা হয়েছে। তবে ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে রয়েছেন জঙ্গলমহলের বাসিন্দারা। লালগড় সংলগ্ন এলাকার গ্রামের বাসিন্দাদের সাবধান করে নিজেদের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে বনদপ্তর।

২০১৮ সালের শুরুতে লালগড়ের জঙ্গলে হঠাৎই রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের খোঁজ মিলেছিল। ঝাড়খণ্ডের জঙ্গল থেকে দেড় হাজার কিলোমিটার পথ পেরিয়ে বাঘটি লালগড়ে চলে এসেছিল বলে অনুমান করেছিল বন দফতর। অনেক চেষ্টার পরেও অবশ্য সেই বাঘকে ধরতে ব্যর্থ হয় বন দফতর। শেষ পর্যন্ত ২০১৮ সালের ১৩ এপ্রিল শিকার উৎসব চলাকালীন বাঘঘরার জঙ্গলে বাঘটিকে হত্যা করেন আদিবাসীরা।