পড়ুয়াদের স্বাস্থ্য সচেতনতায় স্কুলেই চুল ও নখ কাটার আয়োজন করলেন শিক্ষকরা। যা আজকের যুগে নজিরবিহীন ঘটনা বলা যেতে পারে। ছাত্রছাত্রীদের বাড়ি থেকে চুল নখ কেটে আসতে বললেও তারা কেটে আসে না। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার তো বালাই নেই। এমন অবস্থায় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। তাই ছাত্রছাত্রীদের সুস্বাস্থ্যের দিকটি মাথায় রেখে অভিনব এই উদ্যোগ নিয়েছেন স্কুলের শিক্ষকরা। এমনটাই ঘটেছে জঙ্গলমহল ঝাড়গ্রাম জেলার বেলপাহাড়ির প্রত্যন্ত শুশনিজুড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

দিল্লির হিংসা নিয়ে উইকিপিডিয়ায় 'একপেশে খবর', হিন্দুদের সঙ্গে ভিলেন মোদী সরকার

একসময় অনাহারের কবলে পড়েছিল এই বেলপাহাড়ি ব্লকেরই আমলাশোল। তার পর থেকে বেলপাহাড়ির তথাকথিত মানচিত্রের ভোল বদলের জন্য ময়দানে যুদ্ধকালীন তৎপরতা নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছিল মহকুমা, জেলা, রাজ্য প্রশাসন। ২০০৪ সালে পাখির চোখ ছিল শুধুমাত্র বেলপাহাড়ি কেন্দ্র। সময়ের নদীপথে অনেক জল গড়িয়েছে। তথাপি সভ্যতার রূপরেখায় কোথাও যেন পিছিয়ে পড়ার ইঙ্গিতও থেকে গিয়েছে। বাংলা, বিহার, ঝাড়খণ্ডের সীমান্তবর্তী বেলপাহাড়ির শুশনিজুবি গ্রাম যেন আধুনিকতার আলোকবর্ষ থেকে শত যোজন পিছিয়ে। সেখান থেকেই উত্তরণের রাস্তা খুঁজছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। 

পিস্তল নিয়ে অমিত শাহের সভায় ব্যক্তি, জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ

রাজ্য সরকারের উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ চলছে। কিন্তু সামাজিক ক্ষেত্রে বিকাশের জন্য এই এলাকার স্কুল পড়ুয়াদের আধুনিক মনস্ক গড়ে তোলার কাজ শুরু করে দিয়েছেন শুশনিজুবি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। বিঞ্জানের ঢাক ঢোল প্রচার এখানে এসে পৌঁছয়নি। তাই স্কুল পড়ুয়াদের অপরিচ্ছন্ন চিত্রটাই এখানে বিদ্যমান। সেই স্কুল পড়ুয়াদেরকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার শিবিরের আয়োজন করল বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। নিত্যদিন এক বোঝা মাথায় চুল নিয়ে, পরনে নোংরা পোশাক পরে বিদ্যালয়ে আসাটাই ছিল যেখানে রোজনামচা। সেখানে সেই ছেলে মেয়েদের পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য চুল ও নখ কাটার অভিনব শিবিরের আয়োজন হল শনিবার।

ঘরে ঢুকে মারতে পারে , ভারত এখন আমেরিকা-ইজরায়েলের সমান

বিদ্যালয়ের ২৭ জন পড়ুয়ার চুল ও নখ কেটে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়। পাশাপাশি অভিভাবকদের ডেকেও সচেতনার পাঠ পড়ানো হয়।  শিবিরের পরে অভিভাবকদের শিক্ষকেরা বলেন, আপনারা পিছিয়ে থাকলে সমাজ পিছিয়ে থাকবে। আপনাদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। শুশনিজুবি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিমান বিহারী মন্ডল ও শিক্ষক উত্তম বিশ্বাস বলেছেন, অভিভাবকরা খুব একটা শিক্ষিত নয়, তাই তারা নিজেদের ছেলে মেয়েদের সেভাবে পরিচর্যা করতে পারেন না। বারে বারে বলা হয় নখ, চুল কেটে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নভাবে স্কুল আসতে। কিন্তু তারা আমাদের কথায় কোনও গুরুত্ব দেন না। তাই আমরা ঠিক করেছি, ছেলে মেয়েদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে আমরা সঠিক ভাবে তাদের পরিচর্যা করব। প্রত্যেক মাসে একবার করে তাদের চুল কাটার শিবিরের আয়োজন করারও চিন্তাভাবনা করছেন তারা।