নিছকই ভুল বোঝাবুঝির কারণে বিএসএফ জওয়ানদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছেন বিজিবি-র জওয়ানরা। কলকাতায় বসে সাফাই দিলেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তাঁর বক্তব্য, এই ঘটনায় ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে কোনও প্রভাব পড়বে না। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও কথা বলবেন। বস্তুত, যে ভারতীয় মৎস্যজীবীকে গ্রেফতার করেছে বিজিবি, নিয়মমাফিক তাঁকেও মুক্তি দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। 

বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া মুর্শিদাবাদের জলঙ্গীর চর কাকমারী এলাকায় পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন কয়েকজন ভারতীয় মৎস্যজীবী। নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে ভুলবশত তাঁরা ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তের জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি চলে যান।  অভিযোগ, সতর্ক না করেই  তিনজন মৎস্যজীবীকে আটক করে বর্ডার গার্ডস বাংলাদেশ বা বিজিবি। পরে তাঁদের গ্রেফতারও করা হয়। গত বৃহস্পতিবার সকালে মৎস্যজীবীদের উদ্ধার করতে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের দিকে বিএসএফ-এর ১১৭ নম্বর ব্যাটেলিয়নের জওয়ানরা।  কিন্তু ভারতীয় জওয়ানদের দেখেই বিজিবি-এর জওয়ান গুলি চালাতে শুরু করেন। গুলিবিদ্ধ হন ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ১১৭ নম্বর ব্যাটেলিয়নের হেড কনস্টেবল বিজয় ভান। ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আরও এক বিএসএফ জওয়ান। ভেস্তে বিএসএফ ও বিজিবি-এর ফ্ল্যাগ মিটিং। উলটে বাংলাদেশ সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।

মাছ ধরতে গিয়ে ভুলবশত ভারতীয় মৎস্যজীবীদের বাংলাদেশে জলসীমায় ঢুকে পড়ায় ঘটনা তো নতুন নয়। বাংলাদেশে মৎস্যজীবীরাও তো  ভারতীয় সীমানায় ঢুকে পড়েন।  ফ্ল্যাগ মিটিং করে সমস্যা মিটিয়েও ফেলেন দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্তারা। তাহলে খামোকা গুলি চালাতে গেল কেন বিজিবি?  ঘটনাটিকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসদুজ্জামান খান। তাঁর বক্তব্য, ভুল বোঝাবুঝির জন্য এমনটা ঘটেছে। ভবিষ্যতে যাতে আর এমন ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ করা হবে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও কথা বলবেন। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জুন মাসেই শেষবার ভারত ও বাংলাদেশের ডিজি পদমর্যাদার আধিকারিকরা বৈঠকে বসেছিলেন। বৈঠক হয়েছিল ঢাকায়।