Asianet News Bangla

রাজ্য়ে করোনায় মৃত কারা, ৩৪টি পরীক্ষার ফল দেখে সিদ্ধান্ত

  • করোনা পজিটিভ হলেই বলা যাবে না করোনায় মৃত
  •  করোনায় মৃত ঘোষণা করতে পূরণ করতে হবে নির্দিষ্ট ফর্ম
  •  ৩৪টি মাত্রা নির্ধারক বিষয় দেখেই রোগীর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে
  • করোনায় মৃত্যু কিনা নির্ণয় করতে পাঁচ জনের কমিটি   
34 parameters will decide who died in corona virus
Author
Kolkata, First Published Apr 6, 2020, 3:27 PM IST
  • Facebook
  • Twitter
  • Whatsapp


কেবল করোনা পজিটিভ হলেই বলা যাবে না করোনায় মৃত। রাজ্য়ে কোনও রোগীকে করোনায় মৃত ঘোষণা করতে হলে পূরণ করতে হবে নির্দিষ্ট ফর্ম। ৩৪টি মাত্রা নির্ধারক বিষয় দেখেই রোগী করোনায় মৃত কিনা ঘোষণা করতে পারবে কমিটি। আপাতত করোনা নির্ণয় করতে পাঁচ জনের কমিটি গড়েছে রাজ্য় সরকার।

একদিকে কচুপাতা সেদ্ধ খাচ্ছে মানুষ, অন্যদিকে ত্রাণের নামে বিধায়কের সমাবেশ.

রাজ্য়ে করোনা মৃত্যু নিয়ে সংশয় দূর করতে এবার নতুন কমিটি গড়ল স্বাস্থ্য় দফতর। পাঁচ সদস্যের এই নতুন কমিটিই বলে দেবে শরীরে করোনা পজিটিভ থাকলেও আদতে করোনায় মৃত্যু হয়েছি কিনা নির্দিষ্ট ব্যক্তির। যা করতে গিয়ে রোগীর কী কী শারীরিক সমস্যা ছিল, অতীতের রোগের তালিকা ইত্যাদি ৩৪টি বিষয়ে অনুসন্ধান করে ফর্ম পূরণ করতে হবে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে। সেই রিপোর্ট জমা করতে হবে স্বাস্থ্য ভবনে। তবেই জানা যাবে ওই ব্যক্তির মৃত্যু করোনায় হয়েছে কিনা।

রাজ্য়ে করোনায় মরছেন কারা,ঠিক করবে পাঁচজনের বিশেষজ্ঞ কমিটি.  

জানা গিয়েছে প্রথম পর্যায়ে রোগীর নাম,পরিচয়, ঠিকানা ছাড়াও ভিন দেশ বা রাজ্য়ে ভ্রমণের ইতিহাস জানাতে হবে ফর্মে। এছাড়াও রোগীর হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস ছিল কিনা সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে হাসপাতালকে। কিডনি, হার্টের সমস্যা বা সিওপিডি থাকলেও তাও লিখতে হবে ফর্মে। প্রথম পর্যায়েই জানাতে হবে মৃতের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কতটা ছিল সেই বিষয়েও। 

বাড়িতে আলো জ্বালাতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী, মোমবাতি হাতে রাস্তায় অতি উৎসাহীরা.

এরপরই আসবে দ্বিতীয় প্রর্যায়। যেখানে জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যাথার মতো উপসর্গের বিষয়ে জানাতে হবে স্বাস্থ্য় দফতরকে। রোগীর শ্বাসকষ্ট থাকলে তা কোন পর্য়ায়ের ছিল তাও লিখতে হবে ফর্মে। এখানেই শেষ নয়, তৃতীয় পর্যায়ে সব মিলিয়ে ২৪টি রিপোর্ট ভরতে হবে সরকারি,বেসরকারি সব হাসপাতালকেই। রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা, 
রক্তে কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (সিবিসি) অর্থাৎ রক্তে কী পরিমাণ হিমাটোক্রিট, হিমোগ্লোবিন, আরবিসি, ডব্লিউবিসি, প্লেটলেটস ছিল তা জানাতে হবে ফর্মে। এছাড়াও বাধ্য়তামূলক রয়েছে সোডিয়াম, পটাসিয়াম টেস্ট। 

এছাড়াও এলএফটি বা লিভার ফাংশন টেস্ট, ইউরিয়া টেস্ট, মূত্রনালীর সংক্রমণ ছিল কিনা, ক্রিয়েটিনিন ও ব্লাড-সুগার টেস্ট,সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন টেস্ট (সিআরপি) , প্রো-ক্যালসিটেশন টেস্ট সব কিছুরই পরিসংখ্য়ান উল্লেখ করতে হবে এই ফরম্যাটে। বাদ যাবে না চেস্ট-এক্স রে, ইসিজি, ইকো-কার্ডিওগ্রাফি, লোয়ার অ্যাবডোমেন আলট্রাসোনোগ্রাফি , থোরাক্সের সিটি স্ক্যানের মতো বিষয়।

এখানেই থমকে থাকবে না পরীক্ষার প্যারামিটারস। অতীতে ওই রোগীর ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়া ছিল কিনা তারও পরীক্ষা জরুরি। সেই সঙ্গেই স্ক্রাব-টাইফাস টেস্ট জরুরি
রক্তে এনজাইমের মাত্রা কতটা জানার জন্য ক্রিয়েটিন ফসফোকাইনেজ টেস্টের বিষয়ও উল্লেখ করতে হবে স্বাস্থ্য় ভবনের ফর্মে।
 
রাজ্য়ের সাম্প্রতিক অতীত বলছে, রাজ্য়ের করোনায় মৃতের সংখ্যা নিয়ে  ইতিমধ্য়েই সংবাদ মাধ্য়মের সঙ্গে দ্বন্দ্ব বেধেছে মুখ্য়মন্ত্রীর। প্রকাশ্য়ে নবান্নের সাংবাদিক  বৈঠকে সরকারি হিসেবকেই শিরোধার্ষ বলে মানতে বলেছেন মুখ্য়মন্ত্রী। এ বিষয়ে গুজব রটালে মহামারী আইন থাকার কথাও স্মরণ করে দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি যেসব বেসরকারি হাসপাতাল প্রচার পেতে যেকোনও রোগীকে করোনা আক্রান্ত বলছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্য়বস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন মুখ্য়মন্ত্রী। এবার মুখ্য়মন্ত্রীর করোনা রোগী নিয়ে সংশয় দূর করতেই গড়া হয়েছে নতুন পাঁচ সদস্যের কমিটি।  

করোনা মৃত্যু নির্ধারণকারী এই কমিটিতে রয়েছেন, রাজ্যের প্রাক্তন স্বাস্থ্য অধিকর্তা বিশ্বরঞ্জন শতপথী। আপাতত অবসর গ্রহণের পর রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এছাড়াও ওই কমিটিতে রয়েছেন রাজ্যের বর্তমান স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিকর্তা দেবাশিস ভট্টাচার্য। নতুন কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁকে।  কমিটিতে রয়েছেন, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের কার্ডিও থোরাসিক অ্যান্ড ভাস্কুলার সায়েন্সের প্রধান চিকিৎসক প্লাবন মুখোপাধ্যায়, পিজি হাসপাতাল থেকে রয়েছেন সেখানকার ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিনের প্রধান ডা. আশুতোষ ঘোষ এবং আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক জ্যোতির্ময় পাল।

Follow Us:
Download App:
  • android
  • ios