এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হাত ধরেই সামনে এসেছিল লকডাউনের বাজারে কীভাবে অন্নের অভাবে কচুপাতা সেদ্ধ করে তা খাচ্ছে মাদারিদের পরিবার। মালদহ হরিশ্চন্দ্রপুরের এই ঘটনা চোখে আঙুল তুলে দেখিয়েছে লকডাউনে প্রান্তিক ও দিন-আনা দিন খাওয়া মানুষদের কী অবস্থা। মানুষ খেতে পারছে না সেই খবর করতে যাওয়াটা নাকি লকডাউনের নীতিকে লঙ্ঘিত করা, এমন অভিযোগ তুলেছেন এক প্রশাসনিক কর্তা। কিন্তু, ত্রাণ বিলানোর নামে খোদ কলকাতার কসবার বুকে যা ঘটল তা-কে কোন ভাষায় ব্যাখ্যা করবে রাজ্য সরকার থেকে শুরু করে পুলিশ  প্রশাসন। শুধু এখানেই শেষ নয় এই ত্রাণ বিলানোর নামে এলকার মানুষকেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণের অতি-সম্ভাবনায় ফেলে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ। 

এক যুবতী খোদ এই ভিডিও প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছেন। যদিও, এই ভিডিও-টি কবে শ্যুট করা হয়েছে তা জানা যায়নি। কিন্তু তরুণীর দাবি তিনি এই ঘটনা নিয়ে একের পর এক ফেসবুক লাইভ করে গিয়েছেন এবং দেখানোর চেষ্টা করেছেন কীভাবে সাধারণ মানুষের জীবনকে সংশয়ে ফেলে দিয়ে ত্রাণ বিলানোর নামে জন-সমাবেশ ঘটানো হয়েছে। এই ঘটনায় ওই তরুণী তাঁর ভিডিও-তে কসবা বিধানসভার বিধায়ক জাভেদ খান-কে কাঠগড়ায় তুলেছেন। 

রাজ্য়ে একদিনে আরও চার করোনা পজিটিভের মৃত্যু...  

ওই তরুণী ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, পুরো ঘটনাটি ঘটেছে তাঁর বাড়ির সামনে। সকাল থেকে কাতারে কাতারে মানুষ তাঁর বাড়ির সামনে-র মাঠ এবং রাস্তায় ভিড় জমাতে শুরু করে। এর আগে নাকি এলাকায় আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষদের মধ্যে স্থানীয় তৃণমূল নেতারা প্রচার করেছিলেন যে বিধায়ক জাভেদ খান প্রত্যেককে ৫ কিলো করে চাল দেবেন। সেইসঙ্গে দেওয়া হবে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। এরপরই নাকি মানুষ নির্দিষ্ট দিনে এলাকায় ভিড় করতে শুরু করে। তরুণী তাঁর ভিডিও বার্তায় কলকাতা পুলিশের এই ঘটনায় ভূমিকাকে তুলোধনা করেছেন। ভিডিও-তে তিনি দেখিয়েছেন, কাতারে কাতারে মানুষ যত্রতত্র ছড়িয়ে রয়েছে। পুলিশ থাকলেও তারা সেই ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা বা সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং-এর ভাবনাকে কার্যকর করেননি। ওই তরুণীর দাবি, শুধু তাঁদের বাড়িতে নয় এলাকার একাধিক বাড়িতেও অসংখ্য বাচ্চা এবং বয়স্ক লোকজন রয়েছেন। যেখানে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাস্তায় নেমে চক দিয়ে এঁকে সোশ্যাল ডিস্টান্সিং-এর কনসেপ্ট-কে কার্যকর করার কথা বলছেন, মাস্ক পরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, সেখানে তাঁর-ই দলের বিধায়ক এতটাই দায়িত্ব-কর্তব্য এবং জ্ঞানহীনের মতো কাজ করতে পারেন? দেখুন সেই তরুণীর তোলা ভিডিও। 

 

 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

কসবার রুবি পার্ক এলাকার এই ঘটনাকে এক তরুণী ভিডিওবন্দি করে সামনে নিয়ে এসেছেন। ওই তরুণীর অভিযোগ, সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং-এর নিয়ম-কে মানা তো হয়নি, উল্টে ত্রাণ বিলানোর নামে এলাকার অসংখ্য কচি-কাচা এবং বয়স্কদের জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছেন বিধায়ক জাভেদ খান, ভাইরাস সংক্রমণ ঘটে গেলে এর দায়ভার কে নেবে, বলেও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

A post shared by Asianet News Bangla (@asianetnewsbangla) on Apr 5, 2020 at 6:57pm PDT

রাজ্য়ে করোনায় মরছেন কারা,ঠিক করবে পাঁচজনের বিশেষজ্ঞ কমিটি...

ভাইরাল হয়ে যাওয়া এই ভিডিও-তে ওই তরুণীর আরও অভিযোগ, যাদের-কে ত্রাণ দিতে এলাকার কয়েক হাজার মানুষের প্রাণ-কে সংশয়ে ফেলেছেন বিধায়ক জাভেদ খান, সেখানে ত্রাণ নিতে আসা অধিকাংশ মানুষ দুবেলা পেট-পুরে অন্ন খাওয়ার মতো স্বাবলম্বী। তাহলে তেলা মাথায় তেল দেওয়াটা কেন? এলাকার একদল মানুষের অভিযোগ, আসলে ভোটব্যাঙ্ক। তরুণী-র প্রশ্ন করোনাভাইরাসের মতো মারাত্মক সংক্রমণে গোটা বিশ্ব যখন লকডাউনে এবং ত্রাহিত্রাহি রব, তখন এক বিধায়ক ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করতে পারেন?

বাড়িতে আলো জ্বালাতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী, মোমবাতি হাতে রাস্তায় অতি উৎসাহীরা..

বিধায়ক জাভেদ খান-কে এই নিয়ে ধরার চেষ্টা করা হলেও তার প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কারণ তাঁর ফোন বেজে গিয়েছে। কলকাতা পুলিশ লকডাউনের শুরু থেকেই দুর্দান্তভাবে কাজ করে চলেছে। লকডাউন নিয়মকে কড়াভাবে লাগু করা থেকে শুরু করে দুঃস্থ মানুষদের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়া, প্রবীণদের সবধনের সাহায্য করা-সবই করছে কলকাতা পুলিশ। কিন্তু, বিধায়কের অনুষ্ঠানে এমন বিশৃঙ্খলাকেও তাঁরা বাগে আনতে পারলেন না কেন? প্রশ্ন উঠছে তাহলে কি কোথাও কোথাও প্রশাসনিক কড়াকড়ির থেকেও বড় হয়ে উঠছে রাজনৈতিক নেতা এবং তাদের অনুগামীদের দাপট। যার ভিডিও এই মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে উঠেছে নেটদুনিয়ায়।