রাজ্য়ে করোনা মৃত্যু নিয়ে সংশয় দূর করতে এবার নতুন কমিটি গড়ল রাজ্য় সরকার। পাঁচ সদস্যের এই নতুন কমিটিই বলে দেবে শরীরে করোনা পজিটিভ থাকলেও আদতে করোনায় মৃত্যু হয়েছি কিনা নির্দিষ্ট ব্যক্তির।

বাড়িতে আলো জ্বালাতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী, মোমবাতি হাতে রাস্তায় অতি উৎসাহীরা.

রাজ্য়ের করোনায় মৃতের সংখ্যা নিয়ে  ইতিমধ্য়েই সংবাদ মাধ্য়মের সঙ্গে দ্বন্দ্ব বেধেছে মুখ্য়মন্ত্রীর। প্রকাশ্য়ে নবান্নের সাংবাদিক  বৈঠকে সরকারি হিসেবকেই শিরোধার্ষ বলে মানতে বলেছেন মুখ্য়মন্ত্রী। এ বিষয়ে গুজব রটালে মহামারী আইন থাকার কথাও স্মরণ করে দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি যেসব বেসরকারি হাসপাতাল প্রচার পেতে যেকোনও রোগীকে করোনা আক্রান্ত বলছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্য়বস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন মুখ্য়মন্ত্রী। এবার মুখ্য়মন্ত্রীর করোনা রোগী নিয়ে সংশয় দূর করতেই গড়া হয়েছে নতুন পাঁচ সদস্যের কমিটি।  

মোদীর ডাকে সাড়া, করোনা যুদ্ধে অন্ধকারেও আলোময় রাজ্য়.

করোনা মৃত্যু নির্ধারণকারী এই কমিটিতে রয়েছেন, রাজ্যের প্রাক্তন স্বাস্থ্য অধিকর্তা বিশ্বরঞ্জন শতপথী। আপাতত অবসর গ্রহণের পর রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এছাড়াও ওই কমিটিতে রয়েছেন রাজ্যের বর্তমান স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিকর্তা দেবাশিস ভট্টাচার্য। নতুন কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁকে।  কমিটিতে রয়েছেন, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের কার্ডিও থোরাসিক অ্যান্ড ভাস্কুলার সায়েন্সের প্রধান চিকিৎসক প্লাবন মুখোপাধ্যায়, পিজি হাসপাতাল থেকে রয়েছেন সেখানকার ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিনের প্রধান ডা. আশুতোষ ঘোষ এবং আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক জ্যোতির্ময় পাল।

রাজ্য়ে একদিনে আরও চার করোনা পজিটিভের মৃত্যু.

সম্প্রতি করোনায় মৃতের সংখ্য়া নিয়ে এবার সংবাদমাধ্য়মকে সতর্ক হতে বললেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য়ে করোনার সংক্রমণে ৬ জনের মৃত্য়ুর বিষয়টিতে একমত নন তিনি। মুখ্য়মন্ত্রী মতে, কিছু বেসরকারি হাসপাতাল প্রচার পেতে করোনা রোগী ভর্তি হয়েছে বলছে। সংবাদ মাধ্য়মের উচিত সরকারি নথিতে বিশ্বাস করা।  মুখ্য়মন্ত্রীর দাবি, বুধবার বিকেল ৪টে পর্যন্ত রাজ্যে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনায়। ৩৭ জনের মধ্যে ৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি গিয়েছেন। এখন ৩১ জন পজিটিভ। যাদের মধ্যে ১৭ জনই ৪টি পরিবারের সংখ্যার যোগফল। 

মৃতদের মধ্য়ে একজন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন।  অন্যজনের মৃত্যু হয়েছে কিডনির সমস্যায়। এ বিষয়ে সরকারি তথ্যের উপর চোখ রাখতে বলেন মুখ্য়মন্ত্রী।  এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে দায়িত্বশীল হতে পরামর্শ দেন মুখ্য়মন্ত্রী।  পাশাপাশি যেসব বেসরকারি হাসপাতাল প্রচার পাওয়ার জন্য এই সব কাজ করছেন তাদেরও সতর্ক  করে দেন মুখ্য়মন্ত্রী। মমতা বলেন, লড়াইয়ের এই সময়ে এমন প্রচার চালাবেন না।

জানা গিয়েছে, নতুন কমিটি কোনও রোগী করোনা পজেটিভ ধরা পড়লে বা তাঁর মৃত্যু হলে সেই নতি স্বাস্থ্য় ভবনের থেকে নেবে। সেখান থেকে রোগীর বেড টিকিট, ট্রিটমেন্ট হিস্ট্রি, শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট, ডেথ সার্টিফিকেট এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথি যাচাই করেই কোনও সিদ্ধান্তে আসবে।