ছটপুজোকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কাণ্ড রবীন্দ্র সরোবর লেকে। শনিবার সকালে লেকে একটি গেটের তালা ভেঙে দেয় বহিরাগতরা। ছিঁড়ে ফেলা হয় পুরসভার নোটিশ, পোস্টার ও ব্যানার। প্রাতঃভ্রমণকারীদের যখন বহিরাগতদের বাধা দিতে যান, তখন তাঁদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ। বিক্ষোভকারীদের দাবি, প্রতি বছরের মতো এবারও রবীন্দ্র সরোবর লেকে ছটপুজো করতে দিতে হবে। শেষপর্যন্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বাঙালিদের যেমন দুর্গাপুজো, বিহারীদের তেমনই ছটপুজো। ছটপুজোকে কেন্দ্র করে রীতিমতো উৎসবে চলে বিহারে। এ রাজ্যে হিন্দিভাষীদের সংখ্যা প্রায় দু'কোটি। তাঁদের বেশিরভাগই আবার বিহারী। প্রতি বছরই কলকাতা শহরের বিভিন্ন জলাশয়েও ছটপুজো করেন বিহার থেকে আগত মানুষেরা। বাদ যায় না দক্ষিণ কলকাতা রবীন্দ্র সরোবরও।  কিন্তু রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো করা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন পরিবেশপ্রেমীরা। তাঁদের বক্তব্য, শীতের মুখে পরিযায়ী পাখিদের ভিড়ে ঠাসা রবীন্দ্র সরোবরে লেকে কোনওভাবেই ছটপুজো করতে দেওয়া যাবে না।  কারণ, পুজোর কারণে যেমন লেকের জল দূষিত হয়, তেমনি বাজি ও ডিজের দাপটে শব্দদূষণও হয়। এমনকী, অতিরিক্ত শব্দের কারণে রবীন্দ্র সরোবর লেক থেকে সময়ের বহু আগেই চলে যায় পরিযায়ী পাখিরাও।  মামলা গড়ায় আদালতে। দক্ষিণ কলকাতার এই বিখ্যাত লেকে ছটপুজোয় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আদালত। আদালতের নির্দেশে মেনে রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো করা যাবে না বলে নোটিশও ঝুলিয়ে দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। শুধু তাই নয়, ছটপুজোর জন্য শহরের ১০টি জলাশয়কে চিহ্নিতও করে দিয়েছে কেএমডিএ।  ওই জলাশয়গুলিতে আলো, শৌচাগার, এমনকী, পোশাক বদলেরও ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এতকিছুর পরেও রবীন্দ্র সরোবর লেকে ছটপুজোকে ঘিরে অশান্তি এড়ানো গেল না।

শনিবার সকালে যথারীতি রবীন্দ্র সরোবর লেকে সামনে জড়ো হন একদল মানুষ। লেকের তিন নম্বর গেটে তালা ভেঙে দেন তাঁরা। ছিঁড়ে ফেলা পুরসভার নোটিশ, পোস্টার ও ব্যানার। তবে রবীন্দ্র সরোবর লেকে শেষপর্যন্ত অবশ্য ছটপুজো হয়নি। পুলিশ গিয়ে বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে দেয়। তিন নম্বর গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।  লেকের প্রতিটি গেটে মোতায়েন বিশাল পুলিশ। এদিকে এই ঘটনার জন্য কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকেই দায়ী করেছেন পরিবেশপ্রেমীরা। আরও বড় গণ্ডগোলের আশঙ্কা করছেন তাঁরা। 

কিন্তু শহরের দশটি জলাশয়কে তো ছটপুজোর জন্য চিহ্নিত করে দিয়েছে কেমএমডিএ। তাহলে রবীন্দ্র সরোবরে কেন ছটপুজো করতে এসেছিলেন কলকাতার বসবাসকারী বিহারীরা? তাঁদের বক্তব্য, ছোটই শুধু নয়, ওই জলাশয়গুলি জলও অত্য়ন্ত দুষিত।