অবসর নিয়ে তিনি চাইলেই একটু স্বচ্ছলভাবে বাঁচতে পারতেন। মাঝেমধ্য়ে ঘুরে আসতে পারতেন প্য়াকেজ ট্য়ুরে। চাইলে যেতে পারতেন ইউরোপ ট্য়ুরেও। কিন্তু তা না-করে তিনি তাঁর সারাজীবনের সঞ্চয় উজাড় করে দিলেন বিশ্ববিদ্য়ালয়ে।

নাম চিত্রলেকা মালিক। বিড়লাপুর এলাকার ৩৫০ ফুটের এক ছোট্ট ফ্ল্য়াটে  থাকেন এই শিক্ষিকা। সারাজীবন বিয়ে করেননি। কারণ, ইচ্ছেই ছিল, একসময়ে মোটাটাকা সঞ্চয় করে তা দান করে দেওয়া।  অবসর নেওয়ার পর, প্রায় এক কোটি টাকা দান করে দিলেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

চিত্রলেখাদেবীর কথায়, "আমি চারযুগ ধরে শিক্ষকতা করেছি। দেখেছি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো উন্নয়নের লক্ষ্য়ে সব সময়ে অর্থের জন্য় এখান থেকে সেখানে ঘোরে। মেধাবী পড়ুয়ারা অর্থের অভাবে যথাযথ শিক্ষা নিতে পারে না। তাই আমি আমার সঞ্চয়ের বেশিরভাগ টাকাই গবেষণার কাজে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"

ছোটবেলা থেকে বাবাকে দেখে বড় হয়েছেন চিত্রলেখাদেবী। একেবারে সাধারণ জীবন যাপন। তবে সিম্পল লিভিং হলেও হাই থিংকিংয়ের একটা গল্প ছিল বরাবরই। বাবা সাধ্য়মতো দান করেছেন। গরিবদের পড়িয়েছেন।  বাবাই তাঁর আদর্শপ্রতিম। চিত্রলেখাদেবী বাবার মতোই বেছে নিয়েছেন শিক্ষকতার পেশা। পড়াতেন সংস্কৃত। ভিক্টোরিয়া ইনস্টিটুশনের উন্নয়নে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন। ২০১৩ সালে অবসর নেওয়ার পর  হাওড়াতে ইন্ডিয়ান রিসার্চ ইনস্টিট্য়ুট ফর ইন্টিগ্রেটেড মেডিসিনে মা-বাবার নামে ৩১ লাখ টাকা দান করেন। তারপর শিক্ষক পণ্ডিত বিধুভূষণ ভট্টাচার্যের স্মরণে যাদবপুর বিশ্ববিদ্য়ালয়ে ২০১৮ সালে ৫৬ লাখ টাকা দান করেন চিত্রলেখাদেবী। তাঁর দানের অর্থেই বিশ্ববিদ্য়ালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের গবেষণা বৃত্তি দেওয়া হয়।