'আদর্শবাদী মানুষ হিসেবে সৌমিত্র সবার কাছে বরেণ্য ছিলেন'  'আপোসহীনভাবে শাসকদলের সঙ্গেও কখনও লড়াই করেছেন'   'চলচ্চিত্র জগতের পাশপাশি সমাজেও এক শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে'  সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ আব্দুল মান্নানের 

প্রয়াত কিংবদন্তী তারকা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। শোক স্তব্ধ পুরো বাংলা তথা দেশ। কেউ তাঁকে এভাবে হারাতে চায়নি। তাঁর বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় ছিল গোটা শহর। কিন্তু এবার তাঁর নিথর দেহটাই ফিরল শুধু। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ কংগ্রেসের আব্দুল মান্নানের।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

'আদর্শবাদী মানুষ হিসেবে তিনি সবার কাছে বরেণ্য ছিলেন' 

আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, 'সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। প্রায় ৪০ দিন ধরে তিনি মৃত্যুর সঙ্গে যুদ্ধ করছিলেন। দক্ষ চিকিৎসকেরা চেষ্টা করছিলেন তাঁকে সুস্থ করে আমাদের মধ্য়ে ফিরিয়ে দেবার জন্য। কিন্তু আজকে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। তিনি প্রায় ৬ দশকের বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্র জগতে ছাপ রেখে গিয়েছেন, তা মানুষের কাছে চির স্মরণীয়। আমাদের কলেজ জীবনে উত্তমকুমার এবং সৌমিত্রের নাম একইসঙ্গে উচ্চারিত হত। ব্য়াক্তিগতভাবে ঘটনাচক্রে কয়েকবার কয়েকটা জায়গায় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। অমায়িক মানুষ হিসেবেই তাঁকে দেখেছি। এখন অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী সুবিধা পাওয়ার জন্য, শাসকদলের সাহচার্য পাওয়ার জন্য প্রতিযোগীতা করেন। কিন্তু সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় , তিনি নিজের আদর্শে অবচিলিত থেকে, সমস্তরকম লোভ প্রলোভনকে উপেক্ষা করে আপোসহীনভাবে শাসকদলের সঙ্গে কখনও কখনও লড়াইও করেছেন। আসলে তিনি আদর্শবাদী মানুষ হিসেবে তিনি সবার কাছে বরেণ্য ছিলেন। তার পরলোকগমনে চলচ্চিত্র জগতের পাশপাশি সমাজেও এক শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। তার পরিবার,বন্ধুবান্ধব,অনুগামীদের সমবেদনা জানাই। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।'

সন্ধে ৬.৩০ এর মধ্যে গান স্যালুট দিয়ে সম্মান


উল্লেখ্য, রবিবার পাঁচটা পর্যন্ত দু'ঘণ্টা রবীন্দ্রসদনে শায়িত রাখা হবে প্রয়াত অভিনেতার মরদেহ। সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন সাধারণ মানুষ। রবীন্দ্র সদন থেকে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে মিছিল করে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে। সেখানেই সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের। সন্ধ্যা ৬.১৫ থেকে ৬.৩০ এর মধ্যে গান স্যালুট দিয়ে সম্মান জানানো হবে।