ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠল অমর্ত্য সেন বনাম গেরুয়া ব্রিগেডের লড়াই। এবার অমর্ত্য সেনের হয়েই মোক্ষম চাল দিল নগরবাসীই। এদিন কলকাতার রাজপথে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অমর্ত্যে সেনের প্রদত্ত বক্তৃতার অংশবিশেষ হোর্ডিংয়ে ঝোলানো হল। মিন্টোপার্কের মুখেই ঝুলছে ভুবনবিখ্য়াত তার্কিক তথা অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য় সেনের বিস্ফোরক মন্তব্য। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি একটি ভাষণের জন্যে আমন্ত্রিত ছিলেন অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন ও বিদগ্ধ গবেষক পার্থ চট্টোপাধ্যায়। অমর্ত্য সেন সভাস্থল থেকে বলেন, 'নির্দেশ না মানলেই এই দেশে মারধোর করা হচ্ছে। ভারতীয় সংবিধানে সমস্ত ধর্মাচরণের অধিকার দেওয়া হয়েছে।' তিনি আরও বলেন, আমার চার বছরের নাতনিকে জিজ্ঞেসা করেন, তার প্রিয় ভগবান কে, সে জবাব দেয়-দূর্গা। তখন তিনি উপস্থিত জনতাকে বলেন, দুর্গার সঙ্গে রামনবমীর তুলনা চলে না। তাঁর মতে রামনবমী বাংলার  সংস্কৃতির ওতোপ্রতো অংশ নয়।

শ্রীসেনের বক্তব্য নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়। তাঁকে একহাত নিতে শুরু করে গেয়ুয়া শিবির। বিজেপির রাজ্যসভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, 'অমর্ত্য সেন কী জানেন? তিনি ভারতবর্ষের বাইরে থাকেন। এখানকার মানুষের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই তাঁর। দায়-দায়িত্ব কিছুই নেই তাঁর। এসব জ্ঞান দিয়ে চলে গেলে কিছু যায় আসে না। আর যাদের উপরে ভরসা করেছিলেন তাঁরা কোথায় আছেন নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছেন?' বলা ভাল বিজেপি এই বক্তব্যকে আমল দিতে চায়নি।‌
আরও পড়ুনঃ জয় শ্রীরাম নিয়ে অমর্ত্য সেন দিলীপ ঘোষ কাজিয়া, তীব্র প্রতিক্রিয়া দিলেন সাংসদ
জোর করে জয় শ্রীরাম বলানো কেন, নিন্দায় মুখর অমর্ত্য সেন

বিজে্পি আমল না দিলেও কলকাতার সুধী নাগরিক সমাজ যে অর্থনীতিবিদের ডাকে সাড়া দিয়েছে তা প্রমাণ হল মিন্টো পার্কের মুুখের এই হোর্ডিং-এ। বলাই বাহুল্য শহরের ব্যস্ততম রাস্তা এটি। প্রতিদিন হাজার হাজার লোক যাতায়াত করেন এই পথ দিয়ে। তাঁদের অনেকেই দেখবেন এই হোর্ডিং। বাকযুদ্ধ শেষ হয়েছে। কী ভাবে নতুন লড়াইকে চ্যালেঞ্জ করে বিজেপি, সেটাই দেখার।