লোকসভায় উত্থানের পর বিধানসভা উপ নির্বাচনে পতন। বাংলার বুকে বিজেপির তিনে শূন্য ফল দেখে চটেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। রাখ-ঢাক না করেই ডেকে পাঠিয়েছেন দিলীপ ঘোষকে। সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহেই শাহের কাছে হারের সাফাই দেবেন দলের রাজ্য সভাপতি।

২ থেকে ১৮ আসনের পরে বাংলায় বিজেপির রথ থমকানোরে কথা কস্মিনকালেও ভাবেনি শাহ ব্রিগেড। বাংলার উপ নির্বাচনে করিমপুর বাদে খড়গপুর ও কালিয়াগঞ্জে অনায়াসে জয় আসবে ভেবেছিল বঙ্গ বিজেপি। যদিও বাংলার ভোট রাজনীতির চিত্র বলল অন্য কথা। তিনে তিন তৃণমূলের পাশে শূন্য হাতে ফিরতে হল বিজেপিকে। সবথেকে লজ্জার বিষয়,খোদ 'নিজের আসনই' ধরে রাখতে পারলেন না বিজেপির  রাজ্য সভাপতি। কেন দলের লজ্জাজনক হার তা জানতে দিল্লিতে দিলীপকে ডেকে পাঠিয়েছেন অমিত শাহ। একেবারে হাতে পরিসংখ্যান ছাড়াও কোন বুথে দলের কী চিত্র তা চেয়ে পাঠিয়েছেন তিনি। 

দিল্লির কথা মতো ইতিমধ্য়েই উপ নির্বাচনের চালচিত্র নিয়ে তৈরি হচ্ছেন দিলীপ ঘোষ। মুরলীধর স্ট্রিটের কর্তারা জানিয়েছেন, ফাইনালের আগে কলকাতায় বসেই হবে সেমিফাইনাল মিটিং। যেখানে দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে রাজ্য়ের রিপোর্ট  পেশ  করতে হবে দিলীপ ঘোষকে। কলকাতায়  এই মিটিংয়ের দায়িত্বে থাকবেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়া ছাড়াও বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। জানা গেছে, এখান থেকে স্কুটিনি হওয়ার পরই অমিত শাহের কাছে যাবে সেই রিপোর্ট। দিল্লিতে দিলীপ ঘোষ ছাড়াও বাংলার  ১৮জন সাংসদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন অমিত শাহ। কিন্তু এখনই সেই বিষয়ে সবুজ সংকেত মেলেনি। 

কদিন আগেই হারের জন্য অনভিজ্ঞতার কথা বলেছিলেন দিলীপ ঘোষ। আসন জিতলেও তা কীভাবে ধরে রাখতে হয়, তা বিজেপি শেখেনি বলে নিজেই স্বীকার করেছিলেন তিনি। তবে দিলীপ যাই বলুন না কেন, এই হারের পিছনে মুকুল রায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মনে করা হচ্ছে, মুকুল ব্রিগেডের সঙ্গে দিলীপের সংঘাতের ফলেই উপ নির্বাচনে হারের মুখ্ দেখতে হয়েছে বিজেপিকে। পাশাপাশি  দলের নিচুতলায় নব্য় বিজেপির সঙ্গে পুরোনোদের সংঘাতও নতুন নয়। সম্প্রতি দলের মন্ডল  কমিটির সভাপতি  নির্বাচন নিয়ে গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্য়ে এসেছে বিজেপির। খোদ খড়গপুরে পুরোনো কর্মীকে ছেড়ে দিলীপ ঘনিষ্ঠকে প্রার্থী পদ দেওয়া নিয়েও উঠেছিল। নিজে হারের পর প্রার্থী নির্বাচনে ভুল থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছিলেন দিলীপবাবু। সব মিলিয়ে দিল্লিতে যাওয়ার আগে এখন উপ নির্বাচনের ফল আওড়াচ্ছেন বিজেপির  রাজ্য সভাপতি।