বিরোধীদের কোণঠাসা করার সময় ঘরেই শুরু হয়ে গেল কোন্দল। এবার নাম না করে বাবুল সুপ্রিয়কে অরাজনৈতিক ব্য়ক্তিত্ব বলে কটাক্ষ করলেন বিজেপির রাজ্য় সভাপতি দিলীপ ঘোষ। যার ফলে শাসক দলের কটাক্ষের মুখে পড়তে হল গেরুয়া ব্রিগেডকে। 

সম্প্রতি রানাঘাটে নাগরিকত্ব আইনের সমর্থনে বিজেপি-র একটি সভায় অংশগ্রহণ করেন দিলীপবাবু। সেই মঞ্চ থেকেই সিএএ-র প্রতিবাদে রাজ্য জুড়ে শুরু হওয়া তাণ্ডবের সমালোচনা করেন তিনি। খড়্গপুরের সাংসদ বলেন. 'এক কোটি অনুপ্রবেশকারী এখানে রয়েছে, তাঁরা আমার, আপনার টাকায় খাচ্ছে। অন্তত পাঁচ- ছ'শো কোটি টাকার সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে একটা লাঠিও চলেনি, গুলিও চলেনি, দিদির পুলিশ কাউকে গ্রেফতারও করেনি। ভোটার বলে কিছু বলছেন না? আর দেখুন অসমে, উত্তরপ্রদেশে, কর্নাটকে এই শয়তানদের আমাদের সরকার কুকুরের মতো গুলি করে মেরেছে। কেসও দিয়েছে। এখানে এসে খাবেদাবে আর এখানকার সম্পত্তি নষ্ট করবে, জমিদারি পেয়েছো নাকি? লাঠিও মারব, গুলিও মারব, জেলেও ঢুকিয়ে রাখব। তাই করেছে আমাদের সরকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুরোদ নেই কিছু করতে পারেন না।'

দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যেরই কড়া সমালোচনা করেছেন কেন্দ্রীয় বন প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। দিলীপ ঘোষের মন্তব্যকে তাঁর ব্যক্তিগত কল্পনা বলেও দাবি করেছেন তিনি। বাবুল বলেন, 'উত্তরপ্রদেশ, অসম, কর্ণাটকের বিজেপি সরকার কখনওই মানুষকে গুলি করে হত্যা করেনি। খুবই দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করেছেন দিলীপদা। উনি কী বলেছেন, তার দায় বিজেপি-র নয়।' যদিও  মেদিনীপুর আদালতে হাজির হয়ে বিজেপির রাজ্য় সভাপতি বলেন, 'যার যেমন ভাবনা সে তেমন মন্তব্য করেছেন। আমি আমার দলের অবস্থান যেটা, সরকার যেটা করেছে আমি সেটাকে সমর্থন করেছি । পশ্চিমবাংলায় ক্ষমতায় এলে আমরা সেটাই করব।' 

এই বলেই থেমে থাকেননি দিলীপবাবু। পরে তিনি বলেন, অমিত শাহজি ছাড়া পার্টি লাইন কি অন্য় কেউ ঠিক করবে? অনেক সময় দলে অরাজনৈতিক ব্য়ক্তিত্বদের কথা হজম করতে হয়। উদাহরণ হিসাবে চন্দ্র বসুর নাম উল্লেখ করেন বিজেপির রাজ্য় সভাপতি।  এখানেই থামেননি দিলীপবাবু। দলত্যাগী দুই নেতা নবজ্যোৎ সিংহ সিধু ও শত্রুঘ্ন সিনহার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বহু ক্ষেত্রে এই সব অরাজনৈতিক ব্য়ক্তিত্বদের ভাবমূর্তিকে কাজে লাগায় দল। যা করতে গিয়ে অনেক কিছু হজম করতে হয়। বাবুলের নাম না করলেও তাঁর নিশানায় যে বাবুল তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।