রাজ্য়ে করোনায় আক্রান্তের পরিসংখ্য়ান নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য়ের পার্থক্য চলছেই। নতুন করে এই বিতর্কে ইন্ধন জোগালেন কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। আসানসোলের বিজেপি সাংসদের দাবি, রাজ্য়ে করোনায় পাঁচ নয় ,১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। টুইটারে তথ্য় প্রমাণ তুলে ধরে এমনই মন্তব্য করেছেন বাবুল।

করোনা রোগী এবার পার্ক সার্কাসের নার্সিংহোমে , সংস্পর্শে কারা ভেবেই ছড়াচ্ছে আতঙ্ক..

রাজ্য়ে এখনও করোনায় মৃতের সংখ্যা ৫-এ আটকে রয়েছে। যদিও বিরোধীরা দাবি করছেন, মৃতের সংখ্যা কম দেখাচ্ছেন মুখ্য়মন্ত্রী। সম্প্রতি যার পর্দা ফাঁস করলেন বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। যেখানে তিনি লিখেছেন, "তৃণমূল বা দিদি কি বলছেন তাতে আমার সত্যিই কিছু এসে যায় না। আমি যা বলছি, তা বাংলার স্বার্থে বলছি। আর এই কাগজগুলি দেখলে খুব সহজেই আসল বিষয়টা বোঝা যাবে। অনেকগুলি হিসেব কিন্তু মিলছে না। ২৯, ৫০০ টেস্টিং কিট মজুত রয়েছে।  অথচ পরীক্ষা করা হচ্ছে না। নাইসেডে স্য়াম্পলই পাঠানো হচ্ছে না। 

লকডাউনে গিজ গিজ করছে মানুষ, হাওড়া ফুল মার্কেটে ভয়াবহ দৃশ্য়.

— Babul Supriyo (@SuPriyoBabul) April 10, 2020  

নিজের যুক্তি দিতে কলকাতা পুরসভার কোভিড ১৯-এ মৃত ব্যক্তিদের সৎকারের তালিকা তুলে ধরেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। যেখানে দেখা যাচ্ছে, রাজ্য়ে এখনও পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে ১০ জনের সৎকার করা হয়েছে। যার দমদমের মৃতকে নিমতলা ঘাটে সৎকার করা হলেও বাকিদের ধাপা কিংবা বাগমাড়ির কবরস্থানে কবর দেওয়া হয়েছে। ওই তালিকায় করোনায় মৃত প্রতিটি ব্যক্তির তালিকা পর্যন্ত দিয়ে দিয়েছেন বাবুল। যা দেখে মমতার বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে বিজেপি।   

এদিকে, লকডাউন নিয়ে কেন্দ্রের তোপের মুখে রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফ থেকে চিঠি পাঠিয়ে কড়া ভাষায় রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। জায়গার নাম উল্লেখ করে বলে দেওয়া হয়েছে কোথায় লকডাউন মানা হয়নি। কলকাতার রাজাবাজার, তপসিয়া, মেটিয়াবুরুজ, নারকেলডাঙা, গার্ডেনরিচ, ইকবালপুর এই প্রতিটি জায়গায় লকডাউন মানা হয়নি বলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে রাজ্যের পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্র এবং মুখ্য সচিব রাজীব সিনহার কাছে।

কমপ্লিট লকডাউন হচ্ছে না, রাজ্য়ে হটস্পট-এর বদলে 'মাইক্রো প্ল্যানিং'.

একই সঙ্গে বলা হয়েছে, বিনামূল্যের রেশন ব্যবস্থাও ঠিকমত চলছে না। রাজনৈতিক নেতারা রেশনের জিনিস নিয়ে বিলি করছেন। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান নির্দ্বিধায় পালিত হচ্ছে। পুলিশ গুরুত্ব বিবেচনা করে কোনও রকমের ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এ বিষয়ে করা ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। অবিলম্বে চিঠির  প্রেক্ষিতে রাজ্য় কীকী ব্য়বস্থা নিয়েছে তা উল্লেখ করতে বলা হয়েছে জবাবি চিঠিতে।

কেন্দ্রের ওই চিঠি নিয়েও ইতিমধ্য়েই মুখ খুলেছে কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। টুইটারে বাবুল লিখেছেন, 'এই নিয়ে অনেকদিন ধরেই প্রশ্ন তুলছিলাম। গতকালও বলেছি ফুল, মিষ্টি ইত্যাদির ওপর থেকে লকডাউনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে কি বোঝাতে চাইছেন দিদি?উনি কি বলতে চাইছেন যে ওনার নেতৃত্বে বাংলা করোনা-কে হারিয়ে দিয়েছে?আর ভয়ের কিচ্ছু নেই? আসলে ডিসাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট-এর অবমাননা করছেন উনি। এটাই সত্যি!'