থামছে না যাদবপুর বিতর্ক। এবার যাদবপুর বিশ্ববদ্যালয়ের উপাচার্যের নিয়োগ নিয়েই প্রশ্ন তুললেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। বিজেপি সাংসদের দাবি,বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক নিয়োগের বলে বলিয়ান হয়েছেন উপাচার্য সুরঞ্জন দাস।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যাালয়ে মন্ত্রীহেনস্থা কাণ্ড নিয়ে চাপানউতর চলছেই। এবার বিতর্কে নতুন করে ইন্ধন জোগালেন আসানসোলের বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। এক অনুষ্ঠানে বাবুল সুপ্রিয় বলেন, অসুস্থ উপাচার্যকে রাজ্যপাল দেখতে গেলে বিছানাতেই শুয়ে ছিলেন উপাচার্য। অথচ শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় যাওয়াতেই জো হুজুর করে দাঁড়িয়ে পড়েন। এই ছবিই বলে দেয় যাদবপুরের উপাচার্যের কোনও শিরদাঁড়া নেই। উনি একজন শিক্ষাবিদ হতে পারেন। কিন্তু একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হতে গেলে যে ব্য়ক্তিত্ব থাকা উচিত, তা ওনার মধ্য়ে নেই। উনি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈনিত নিয়োগের বলে বলিয়ান।

এই বলেই অবশ্য় থেমে থাকেননি কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী। পাল্টা বাবুল বলেন,যাদবপুরের ক্যাম্পাসেও ওনাকে আমি এই কথা বলেছিলাম। পার্থবাবু গেলে তো আপনি গেটে দাঁড়িয়ে থাকতেন ! আমার বেলায় পুলিশ ডাকবেন না অথচ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে দেখেও এলেন না। সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হুলুস্থুলু কাণ্ডে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন বাচিক শিল্পী উর্মিমালা বসু। ঘটনার জন্য বাবুলকেই ছাত্রদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। যার জেরে সোশ্য়াল মিডিয়ায় এই শিল্পীকে নিয়ে মারাত্মক ট্রোল শুরু হয়। তবে এই ট্রোলকে সমর্থন না করলেও ইতিমধ্য়েই ওই শিল্পীকে টুইটারে জবাব দিয়েছেন মন্ত্রী। টুইটারে বাবুল লিখেছেন, প্রিয় উর্মিমালাদি, আপনাকে ও জগন্নাথদাকে অনেকদিন থেকে চিনি, তাই ছোট্ট করে লিখছি। আপনি ধর্মান্ধ - আপনার ধর্ম 'বাম-বাদ' নো প্রব্লেম, কিন্তু আপনি তো জন্মান্ধ নন! তাহলে সত্যি তা কেন দেখতে পান না, দেখতে চান না বলে কি? 'খুব জানতে'ইচ্ছে করে'! যদিও শিল্পীকে ট্রোল করার জন্য উল্টে নিজের সমর্থকদেরই একহাত নিয়েছেন আসানসোলের বিজেপি সাংসদ। টুইটারে তিনি লেখেন,এই ধরনের ট্রোলের তীব্র নিন্দা করছি। আমি বহুদিন ধরে ওনাকে ব্য়ক্তিগতভাবে চিনি। তাই ওনার সম্পর্কে এই ধরনের ট্রোল কোনওভাবেই সমর্থন করি না।

এবিভিপির নবীন বরণ অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যান আসানসোলের বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। প্রথম থেকেই বাবুলকে বিশ্ববিদ্য়ালয়ে ঢুকতে বাধা দেয় বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের পড়ুয়ারা। অভিযোগ, গো-ব্যাক স্লোগানের মাঝে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে ধাক্কা মারে ছাত্ররা। এমনকী তাঁর চুল ধরেও টানা হয়। এরপরই ক্যাম্পাস থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা রাজ্যপাল ভবনে ফোন করেন বাবুল। পরে খোঁজ নিয়ে বিকেল ৪টে ১৫ তে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুরঞ্জন দাসকে ফোন করেন রাজ্যপাল। দ্রুত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে হেনস্থার রিপোর্ট চেয়ে পাঠান তিনি। ক্য়াম্পাসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হেনস্থার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। পরে বাবুলকে উদ্ধার করতে নিজেই ক্যাম্পাসে যান রাজ্যপাল। পরে যাদবপুরকাণ্ডে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে থানায় অভিযোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা।