দেরি হলেও ভুল বুঝতে পারল ছেলে। যদিও ছেলের জন্য়ই এখন রোগের সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন বালিগঞ্জের করোনা আক্রান্ত যুবকের বাবা-মা। হাসপাতালে শুয়ে ছেলের মুখে তাই এক কথা-একী করলাম!

আমেরিকা না ছত্তিশগড়, কোথা থেকে মৃতের করোনা সংক্রমণ..

যুবকের দেহে রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বেশি  থাকায় আপাতত আইসোলেশনে স্বাভাবিকই আছে ছেলে। কিন্তু ডাক্তাররা বলছেন, প্রবীণ নাগরিকদের জন্য় আতঙ্কের কারণ করোনা। বেশি বয়সে রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা কমে যাওয়ায় প্রবীণ শরীরে মারাত্মক আকার ধারণ করে করোনা। বিষয়য়টা দেরিতে হলেও বুঝতে পরেছেন বালিগঞ্জের ওই যুবক। বার বার বাবা-মায়ের জন্য় অনুতাপ ঝড়ে পড়ছে তার গলায়। কেন এরকম করলাম আক্ষেপ করছেন পন্ডিতিয়া রোডের অভিজাত ব্যবসায়ী পরিবারের ওই ছেলে।

করোনার মৃত্যুমিছিলে উঠল কলকাতার নাম, রাজ্যে এই ভাইরাসের প্রথম মৃত্যু

জানা গিয়েছে, এ দিন নিরামিষ খাবার খেয়ে স্বাভাবিক আছেন লন্ডন ফেরত ওই করোনা আক্রান্ত। তাঁর আবাসনে কমপক্ষে ২৫০ জনের বেশি বাসিন্দা থাকেন। বিদেশ থেকে ফিরে তিনি কার কার সংস্পর্শে এসেছেন তা নিয়ে চিন্তায় স্বাস্থ্য় দফতর। ওই যুবকের খবর প্রকাশ্য়ে আসতেই ক্ষোভে ফুঁসছে বালিগঞ্জ আবাসনের বাসিন্দারা। এদিকে, বাবা-মা  তো বটেই করোনা আক্রান্ত ছেলের দায়িত্বানহীনতার ফল ভুগতে হচ্ছে বাড়ির পরিচারিকাকে। জানা গিয়েছে, লন্ডন ফেরত বালিগঞ্জের যুবকের সংস্পর্শে এসে পরিবারের সঙ্গে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের পরিচারিকাও। এখন নিজে করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় তার স্বামীকেও আইসোলেশনে রাখা হচ্ছে। 

রাস্তাতেই জ্বরে বেহুঁশ ভিনরাজ্যের যুবক, আতঙ্ক ছড়াল ধর্মতলায়.

সূত্রের খবর, ওই পরিচারিকার বাড়ি রাজপুর-সোনারপুর এলাকায়। বালিগঞ্জের পন্ডিতিয়া রোডে কাজের কারণে রোজ যাতায়াত করতেন তিনি। তার স্বামীকে ভর্তি করা হয়েছে সোনারপুর গ্রামীণ হাসপাতালে। সুভাষগ্রামের এই হাসপাতালে এখন আইসোলেশনে রয়েছে  পরিচারিকার পরিবার। কদিন  আগেই বারুইপুর-সোনারপুর এলাকার করোনা আক্রান্তদের জন্য় আলাদা ওয়ার্ডের ব্য়বস্তা করা হয়েছে। সেখানেই আপাতত ১৪ দিনের কোয়রেন্টিনে রয়েছে পরিচারিকার পরিবার। রবিবার করোনা পাওয়া গিয়েছে একই পরিবারের তিন জনের শরীরে। ফলে রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৭। 

কদিন আগেই ইংল্যান্ড ফেরত বালিগঞ্জের যুবকের শরীরে করোনার জীবাণু পাওয়া যায়। তাঁকে দ্রুত বেলেঘাটা আইডিতে ভর্তি করা হয়৷ সেই সঙ্গে তাঁর পরিবারের লোকেদেরও রাখা হয়আইসোলেশনে৷  সেই সময় চূড়ান্ত দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো কাজ করেছিলেন কলকাতার দ্বিতীয় করোনা আক্রান্ত। যার খেসারত দিতে হচ্ছে তাঁর মা-বাবা এবং পরিচারিকাকে। এদিন তাঁদের শরীরেও মিলল COVID-19 ভাইরাস। 

জানা গিয়েছে, গত ১৩ মার্চ লন্ডন থেকে শহরে ফেরেন বালিগঞ্জের অভিজাত আবাসনের ওই তরুণ। তাঁর বন্ধুরা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত জানা সত্ত্বেও আবাসন ছাড়াও পরিবারের সঙ্গে মিশে যান তিনি। বিমানবন্দরে থার্মাল পরীক্ষার পর বেলেঘাটা আইডিতে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তা মানেননি তিনি। উল্টে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছেন বলে অভিযোগ। যার ফলে তার  জন্য় ভুগতে হচ্ছে তাঁর পরিবার ছাড়াও সংস্পর্শে আসা ব্য়ক্তিদের। আপাতত বেলেঘাটা আইডি-র আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভরতি তিনজনই।