সাদা কাশ আর শিউলি ফুলের গন্ধ যেন মায়ের আগমণ বার্তা দিচ্ছে। আসছে পুজো, সেই সঙ্গে সর্বত্র শুরু হয়ে গিয়েছে তারই তোড়জোড়। এখন প্রায় সর্বত্র থিম পুজোর আধিক্য লক্ষ করা যায়। থিমের পুজোর আধিক্য বাড়লেও বনেদি বাড়ির পুজোর যেন একটা আলাদাই ঐতিহ্য। বনেদি বাড়িতে পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে অনেকদিন থেকেই। কলকাতার বনেদি পরিবার গুলোতেও পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। বেহেলার জগৎ মুখোপাধ্যায় পরিবারেও শুরু হয়ে গিয়েছে পুজোর প্রস্তুতি।

বেহেলার জগৎ মুখপাধ্যায়ের পুজোর শুরু হওয়ার পিছনে আছে একটা গল্প। এই জগৎরাম মুখোপাধ্যায় আগে থাকতেন ব্যারাকপুরে। তার প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পরে তিনি দ্বিতীয় বিবাহ করেন। তাঁর বিবাহ হয় হালদার পরিবারের মেয়ের সঙ্গে। বিবাহের পরে ১৯৭০ সাল থেকে তিনি বেহালায় থাকতে শুরু করেন। বিবাহের পরে তাঁর একজন কন্যা সন্তান এবং চার জন পুত্র সন্তান হয়। একবার পুজোর অষ্টমির দিন তাঁর সেই একমাত্র মেয়ে মামার বাড়িতে যায় ঠাকুর দেখতে। সেখানে গিয়ে সে কোনও এক কারণে ভিষণ ভাবে অপমানিত হয়। বাড়িতে এসে সে কান্নাকাটির পরে তাঁর বাবার কাছে বায়না ধরে দুর্গা পুজো শুরু করার। নবমির দিনই সেখানে শুরু হয়ে যায় পুজো। প্রতিমা গড়ার সময় না থাকায় সেবার সেখানে ঘটেই পুজো হয়।  

পরে অবশ্য সেখানে মুর্তি গড়েই দুর্গা পুজো শুরু হয়। এমনকি পরে সেখানে সেনার দুর্গা প্রতিষ্ঠা করে পুজো শুরু হয়। আজও সেই সোনার দুর্গাই সেখানে পুজিত হচ্ছে। এমনকি বেহালার জগৎরাম মুখোপাধ্যায় -এর পুজো এখন সোনার দুর্গা নামেই প্রসিদ্ধ। আজও সেখানে পুরনো রীতি মেনেই পুজো হয়। এই সোনার দুর্গা দর্শন করতে হলে যেতে হবে ৫৬ ব্রাহ্ম সমাজ রোড, বেহলায়।