উত্তর দিনাজপুর জেলার হেমতাবাদ-এর বিজেপি বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়ে কলকাতার রাস্তায় নামল বিজেপি। দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে  রাজ্য সদর দফতর থেকে সোমবার মিছিল শুরু হয়। মিছিল শেষে বল্লভভাই প্যাটেলের মূর্তির সামনে। মিছিল থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি চ্যালেঞ্জ করেন,মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৎ সাহস থাকলে এই মৃত্যুর ঘটনার সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিন।

এই বলেই অবশ্য থেমে থাকেননি রাজ্য় বিজেপির কান্ডারি। তিনি আরও বলেন, রাজ্য়ে মমতার সরকার এখন বোবা-কালার সরকারে পরিণত হয়েছে। রাজ্য়ে জঙ্গলরাজ কায়েম করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগে দেশের আইনশৃঙ্খলার বাজে উদাহরণ দিতে উত্তরপ্রদেশ বিহারের নাম নেওয়া হত। এখন সবাইকে পিছনে ফেলে দিয়েছে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের  সরকার। তাই তাদেরকে বোঝাতে আগামী ১৫ জুলাই সারা রাজ্য়ে থানায় থানায় বিক্ষোভ দেখাবে বিজেপির কর্মীরা।

সোমবার সকালে হেমতাবাদ থানার অন্তর্গত বালিয়ামোড় এলাকায় স্থানীয় বিধায়কের ঝুলন্ত মৃতদেহটি প্রথম চোখে পড়েছিল স্থানীয় বাসিন্দারাই। তাঁরাই খবর দেয় হেমতাবাদ থানায়। ঘটনাস্থলে ছুটে আসে বিশাল পুলিশবাহিনী। দেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে রায়গঞ্জ গভর্মেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে হেমতাবাদ থানার পুলিশ।

তবে বিধায়কের পরিবারের দাবি পরিকল্পিতভাবেই বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয়েছে তাঁকে। পরিবার সূত্রে দাবি, রবিবার সন্ধায় বালিয়ামোড় এলাকার এক চায়ের দোকানে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন দেবেন্দ্রবাবু। রাত সাড়ে ন'টা নাগাদ বাড়ি ফিরেছিলেন। কিন্তু রাত ১ টা নাগাদ কেউ বা কারা তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন বিধায়কের ভাইঝি। তারপর রাতে আর বাড়ি ফেরেননি তিনি।  

এই ভয়ঙ্কর ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিকভাবেই ওই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন তিনি অত্যন্ত মিশুকে ছিলেন। রাজনীতি করলেও তাঁর কোনও শত্রু ছিল না। বিধায়কের পরিবার ও বিজেপি-র অভিযোগ, দেবেন্দ্রনাথ রায়-কে আগে খুন করা হয়েছে, তারপর তাঁর দেহ ওইভাবে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। দোষীদের গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন মৃতের পরিবার। ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিজেপি দলও।

২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হেমতাবাদ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের সমর্থনে সিপিএম প্রার্থী হিসেবে ভোটে জয়লাভ করেছিলেন দেবেন্দ্রনাথ রায়। তার আগে বিন্দোল গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন তিনি। সিপিএম এর দীর্ঘদিনের লড়াকু নেতা হিসাবেই পরিচয় ছিল তাঁর। তবে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের ঠিক আগ দিয়েই আচমকা তিনি সিপিএম দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন।