রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ৬০ লক্ষের বেশি নাম বিচারাধীন এবং ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার নাম বাদ যাওয়ায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে, যার জেরে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসছেন। 

রাজ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বিচারাধীন হিসেবে ৬০ লক্ষের বেশি ভোটারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ডিলিট করা হয়েছে ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ভোটারের নাম। এরপর ছড়িয়েছে আতঙ্ক। এই আতঙ্কে অন্তত আট জনের মৃত্যু হয়েছে। একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

বিচারাধীন হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পশ্চিমের বাসিন্দা রফিক আলি। এই আতঙ্কে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরার বাসিন্দা কৃষ্ণ পাল। মৃত্যু হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের বাবুবাজারে প্রিয়াঙ্কা চট্টোপাধ্যায়ের।

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আতঙ্কে অনেকেই আত্মহত্যা করেছেন, কিংবা কেউ আতঙ্কে মারা গিয়েছে। এসআইআর-র গোড়া থেকেই চলছে মৃত্যু মিছিল। চূড়ান্ত লিস্ট প্রকাশের পরেও সেই মৃত্যুর মিছিল চলতে থাকায় নতুন করে প্রতিবাদী হচ্ছেন তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেত্রী। শুক্রবার ধর্মতলা মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসবেন তিনি। রবিবার এই ধর্না কর্মসূচির কথা জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক। ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকেই এসআইআর নিয়ে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন তৃণমূল মেত্রী।

বর্তমানে মেট্রো চ্যানেলে মমতার ধর্না কর্মসূচির জন্য মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে। মেট্রো চ্যানেলে হেয়ার স্ট্রিট থানার যে আউটপোস্ট রয়েছে, তার সামনেই মূল মঞ্চ তৈরি হচ্ছে। মমতার এই ধর্না কর্মসূচি নিয়ে তৃণমূল বুধবার দুটি পরচার ভিডিও রিলিজ করেছে।

সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় এই মেট্রো চ্যানেলেই অনশন কর্মসূচি করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দলের প্রথম সারির নেতা-মন্ত্রী-সাংসদরা শুক্রবার ধর্না কর্মসূচিতে থাকবেন। কলকাতা-সহ পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে তৃণমূলে নেতা-কর্মীরা আসবেন।

এদিকে আবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বিচারধীন থাকার প্রতিবাদে বুধবার সিইও দফতরের কাছে বিক্ষোভ সমাবেশ করে বামেরা। বিমান বসু, মহম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে বড় মিছিল যায় সিইও অফিসের সামনে। সেলিম বলেন, নির্বাচন কমিশন নির্যাতন কমিশন হয়েছে। আরএসএস-বিজেপির পরিকল্পনামাফিক ভোটের আগে নির্বাচন কমিশন মানুষকে নির্যাতন করছে। একটিও বিচারাধীন কেস রাখা যাবে না, কাউকে ডি ভোটার করা যাবে না।