রুশি পাঁজা: উৎসবের মরশুমে করোনা আতঙ্ক। পুজোর সময়ে ভিড় নিয়ন্ত্রণে এবার রাজ্যের সমস্ত প্যান্ডেলে দর্শনার্থীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করল কলকাতা হাইকোর্ট। শুধু তাই নয়, একসঙ্গে ১৫ থেকে ২৫ জনের বেশি মানুষ জমায়েত করা যাবে না মণ্ডপে। এমনকী, রাস্তায়ও ভিড় কমাতে সচেতনতা অভিযান চালাতে হবে প্রশাসনকে। জনস্বার্থ মামলায় নজিরবিহীন রায় দিল হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।

আরও পড়ুন: 'জানি না সম্ভব কিনা-সরকার প্য়ান্ডেলের টাকাও দিচ্ছে, সেখানে বাধা নেই', রায় বেরোতেই বিস্ফোরক অধীর

পুজোর পর বিপদ আরও বাড়বে না তো? এ রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সরকারের। তবে উৎসব বন্ধ রাখতে রাজি নন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। অতিমারী আবহেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুর্গাপুজোর অনুমতি দিয়েছেন তিনি। আর তাতেই প্রমাদ গুনছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, এখন থেকেই রাস্তায় কার্যত মানুষের ঢল নেমেছে। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যাও। এই পরিস্থিতিতে এবছর দুর্গোৎসব বন্ধের আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেছিলেন অজয় কুমার দে নামে এক ব্যক্তি। সোমবার মামলাটির শুনানি হয় হাইকোর্টের বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ।

শুনানি শেষে কী রায় দিল আদালত? ডিভিশন বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পুজোর কেনাকাটা করার জন্য দোকানে কিংবা শপিং মলে যেমন ভিড় হচ্ছে, পুজোর সময়ে তার পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া যাবে না। কিন্তু কীভাবে? হাইকোর্টের নির্দেশ, জনস্বার্থে ছোট-বড় কোনও প্য়ান্ডেলে বহিরাগত দর্শনার্থীরা ঢুকতে পারবেন না। এমনকী, প্যান্ডেল ও লাগোয়া এলাকা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে নো এন্ট্রি বোর্ড ঝুলিয়ে দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটির সদস্যরা কারা, তাঁদের নামের তালিকা তৈরি করে প্রশাসনকে দিতে হবে। সেই তালিকা যাঁদের নাম থাকবে, তাঁরা ছাড়া আর কেউ মণ্ডপে ঢুকতে পারবেন না। রাজ্যের যে ৩৪ হাজার পুজো কমিটি-কে অনুদান দিয়েছে সরকার, সেই কমিটিগুলিকে এই নিয়ম মেনে চলতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আরও পড়ুন: পুজোর আগে দুঃসংবাদ, কাজ হারাতে পারেন স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার এটিএম কর্মচারীরা

এ তো গেল পুজো মণ্ডপের কথা। কিন্তু রাস্তায় ভিড় কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে? মামলার শুনানিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাজ্যের পরিকল্পনা জানতে চাওয়া হয়। মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে গাইডলাইন তৈরির নির্দেশ হাইকোর্ট। মঙ্গলবার মামলার রায়ে রাস্তায় ভিড় নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে সচেতন অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। উল্লেখ্য, দিন কয়েক আগে কিন্তু স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কলকাতার সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের মণ্ডপে বহিরাগত দর্শকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে পুজো উদ্যোক্তা। একই পথে হেঁটেছে বেহালার দেবদারু ফটক ক্লাবও। আর এবার আদালতের নির্দেশে দর্শনশূন্য থাকবে রাজ্যের সমস্ত পুজোমণ্ডপ।