রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে কেন্দ্র থেকে পাঠানো হয়েছে প্রতিনিধি দল।মঙ্গলবার শহরের করোনা আক্রান্ত এলাকাগুলিকে চিহ্নিত করে পরিদর্শন করার সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। যদিও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিদর্শনে বাধা পায় তাঁরা। পুলিশের নির্দেশ মতো এলাকা পরিদর্শনের কথা বলা হলে নাকচ করে কেন্দ্রের প্রতিনিধি দল। কেন্দ্র থেকে যে তালিকা পাঠানো হয়েছে সেই অনুযায়ী এলাকা পরিদর্শনের দাবি রাখে তাঁরা। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও আটকে। গুরুসদয় দত্ত রোডের বিএসএফের সদর দফতরেই রয়েছেন তাঁরা। সেখানে আসেন সাউথ ইস্ট ডিভিশনের ডিসি দেবস্মিতা দাস ও স্থানীয় থানার আধিকারিকরা।

সোমবারই রাজ্য়ে করোনা পরিস্থিতির মধ্য়েই কেন্দ্র-রাজ্য় সংঘাত লেগে যায়। কেন লকডাউনে রাজ্য়ে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল পাঠাল সরকার তা নিয়ে প্রশ্ন তোলন খোদ মুখ্য়মন্ত্রী। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোয় আঘাত বলে পাল্টা প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। যে পদ্ধতিতে রাজ্য়ে এই টিম পাঠানো হয়েছে নবান্নে তার সমালোচনা করেন খোদ মুখ্য়সচিব রাজীব সিনহা। 

এদিন বিকেলেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় দল পাঠানো নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লেখেন মুখ্যমন্ত্রী। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন,তাঁর সঙ্গে ফোনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা হয়েছে। কেন্দ্রীয় দল আসা নিয়ে দুপুর ১টায় কথা হয় অমিত শাহের সঙ্গে। কিন্তু কেন্দ্রীয় দল রাজ্যে চলে আসে সকাল ১০.১০ মিনিটে। কেন্দ্রীয় দল আসার মাত্র ৩০ মিনিট আগে মুখ্যসচিবের কাছে কেন্দ্রীয় দল আসা নিয়ে চিঠি আসে। আগে না জানিয়ে দল পাঠানো প্রতিষ্ঠিত রীতি বিরোধী।

একই কথা শোনা যায় নবান্নে রাজীব সিনহার মুখে। মুখ্য়সচিব বলেন, আমার তো মনে হচ্ছে ওঁরা (আন্তঃমন্ত্রক দলের সদস্যরা) এখানে আসার পর আমাদের জানানো হয়েছে। কলকাতা, হাওড়া-সহ বাংলার সাতটি জেলার পরিস্থিতিকে স্পর্শকাতর বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় সরকার। তাই ওই জেলাগুলির পরিস্থিতি দেখতে আন্তঃমন্ত্রক দল পাঠিয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে মুখ্য সচিবকে চিঠি পাঠিয়ে এ কথা জানিয়ে দেয় দিল্লি। ওই চিঠিতেই তারিখের স্থানে ১৯ এপ্রিল লেখা রয়েছে। কিন্ত রাজীব সিনহার দাবি, নবান্নে যখন সেই চিঠি এসেছে তখনই তাঁরা জানতে পারেন, দিল্লি থেকে প্রতিনিধি দল রওনা হয়ে গিয়েছে।