মোদী সরকারের বিরুদ্ধে বিদেশ সফর আটকানোর অভিযোগ আনল তৃণমূল। দলের অভিযোগ, ভিসা বাতিলের ফলে বন্ধ হয়েছে তৃণমূলের সাংসদ শতাব্দী রায়ের চিন সফর। এমনকী ভিসা নিয়ে গরিমসির অভিযোগ এনেছেন দলের আরও এক সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। ইতিমধ্যেই বিদেশমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ জানানোর কথা বলেছে তৃণমূল।  

অক্টোবরের মাঝামাাঝি চিনের সিল্ক রোড ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে যোগ দেওয়ার কথা ছিল তৃণমূলের সাংসদ শতাব্দী রায়ের। এ বিষয়ে উদ্য়োক্তারাই শতাব্দীর যাতায়াতের দায়িত্ব বহন করছিলেন। এমনকী আমন্ত্রণপত্রও পাঠানো হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু অজানা কারণে চিন যাওয়ার ছাড়পত্র পাননি শতাব্দী। তিনি  জানান,গত ১৫ থেকে ২০ অক্টোবর চিনের ফুজিয়ান শহরে বাংলা সিনেমার শতবর্ষ উপলক্ষ্যে ফেস্টিভ্যালে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। 

তার সাক্ষী থাকতেই তাঁকে আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছিল। সেই অনুসারে ভিসার আবেদন করার পাশাপাশি এমপি হিসেবে সরকারকে জানিয়ে যাওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে বিষয়টি জানান তিনি। কিন্তু কয়েকদিন ঝুলিয়ে রেখে ইমেলে জানিয়ে দেওয়া হয়, চিনের সফরে অনুমতি পাবেন না তিনি। এরপরই কেন্দ্রীয় সরকারকে কটাক্ষ করে শতাব্দী বলেন, চিনের প্রেসিডেন্ট ভারতে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন, আর আমি চিনে যেতে চাইলে আটকানো হল? তাও কোনও কারণ না দেখিয়ে! বার বার ইমেল করে কোনও জবাব আসেনি বিদেশ মন্ত্রকের তরফে। 

প্রায়  একই অভিযোগ করেছেন তৃণমূলের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তাঁর অভিযোগ,ছেলে লন্ডনে পড়াশোনা করেন। সেখানে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে ভিসার জন্য আবেদন করেছেন। অথচ ভিসার বিষয়ে গরিমসি করে যাচ্ছে কেন্দ্র। এ বিষয়ে তৃণমূলের সংসদীয় দলের নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিষয়টি মোটেই কাম্য নয়। একজন সাংসদ কোনও রাজনৈতিক কাজে নয়, কেবল চলচ্চিত্র উৎসবে আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন। কেন ব্য়ক্তিগত এই সফর আটকানো হল? বিষয়টি লোকসভার জিরো আওয়ারে তোলার কথা বলেন সুদীপবাবু।

রাজ্য় রাজনীতির অতীত ইতিহাস বলছে, ২০১৭ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কুনমিং সফরও আটকে দেওয়া হয়। প্রথমে অনুমতি দেওয়া হলেও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত বলে  সেই সময় মুখ্যমন্ত্রীকে চিন সফরের ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি৷  তবে  শুধু তৃণমূল নয়, এক সময় দিল্লির মুখ্য়মন্ত্রীর চিন সফরের অনুমতি বাতিল করে কেন্দ্রীয় সরকার।  তবে কেন শতাব্দী রায়কে এই অনুমতি দেওয়া হল না, তা নিয়ে মুখ খোলেনি কেন্দ্র।