কলকাতার বুকেও উঠল বিতর্কিত গোলিমারো স্লোগান। দিল্লি নির্বাচনের প্রচারপর্বে কেন্দ্রীয় অর্থ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী অনুরাগদ ঠাকুর প্রথম এই স্লোগান তুলেছিলেন। এরপর এই স্লোগান নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। তারপর রবিবার অমিত শাহ-এর সভায় যোগ দিতে আসা বিজেপি কর্মীদের মুখেও শোনা গেল সেই স্লোগান। ধর্মতলা এলাকা দিয়ে মিছিল করে সভায় পথে আসার পথে বিজেুপি নেতা কর্মীরা স্লোগান দিলেন, 'দেশ কে গদ্দারো কো, গোলি মারো সালো কো'।

দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক প্রচার সভায় কেন্দ্রীয়মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরও প্রথম হাততালি দিয়ে দিয়ে এই স্লোগান তুলেছিলেন। তারপরই জামিয়া নগর ও শাহিনবাগ-এর প্রতিবাদস্থলে পরপর তিনদিনে তিনবার গুলি চালনার ঘটনা ঘটে। দিল্লির নির্বাচনে অবশ্য এইসব উস্কানিমূলক স্লোগানে লাভ হয়নি বিজেপির। কিন্তু নির্বাচনের পর এক নজিরবিহীন হিংসার পরিবেশ তৈরি হয় দিল্লিতে।

গত রবিবার সিএএ আইনের সমর্থনে আরেক বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র-র সভার কয়েক ঘন্টা পরই তীব্র হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। তারপর থেকে তিনদিন ধরে এই হিংসার আগুনে পুড়েছে উত্তরপূর্ব দিল্লি। ৪২ জনের মৃত্যু হয়। তিনসো-রও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বহু ঘরবাড়ি, ধর্মীয় স্থান, অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে প্রচুর যানবাহনেও।

এর পিছনে বিজেপি নেতাদের উস্কানিমূলক বক্তৃতা ও স্লোগান-কে দায়ী করা হয়েছে। দিল্লি হাইকোর্টে এই স্লোগান দেওয়ার জন্য অনুরাগ ঠাকুরদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েক করার আবেদনও করা হয়েছে। এই নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আদালত পুলিশ-কে চার সপ্তাহ সময় দিয়েছে। তারমধ্যেই কলকাতার বুকে ফের শোনা গেল সেই বিতর্কিত স্লোগান।