অস্বস্তি কমাতে স্বস্তির পরিকল্পনা। সোশ্যাল মিডিয়ায় করোনা আক্রান্ত রোগীর কাতর আর্জি শুনে তড়িঘড়ি হাসপাতালে পৌঁছলেন তৃণমূলের মন্ত্রী। যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেন রোগীর সঙ্গে। কিন্তু হাসপাতালের বাইরে থেকেই চলে যেতে হল তাঁকে। যদিও যাওয়ার সময় মন্ত্রী জানিয়ে গেলেন, প্রয়োজনে পিপিই কিট পরে রোগীর সঙ্গে দেখা করতে চান তিনি। কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। ফেসবুক লাইভে রাজ্য়ের করোনা চিকিৎসার হাল দেখে মমতার সরকারকে দুষতে ছাড়েননি কেউই।

কদিন আগেই রাজ্য়ে ফ্রিতে করোনা চিকিৎসা নিয়ে নিজের গর্বের কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য়ে করোনা আবহে একের পর এক ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, সরকারি হাসপাতালে ফ্রিতে চিকিৎসা হলেও অভিযোগের শেষ নেই রোগীদের। এবার চিকিৎসক, নার্সদের সাহায্য় না পেয়ে ফেসবুকে বাঁচার কাতর আর্জি জানালেন যুবতী। যার জেরে প্রকাশ্য়ে চলে এল রাজ্য়ের করোনা চিকিৎসার হাল। যদিও মৌমিতা ঘোষের এই ভিডিয়ো যাচাই করেনি এশিয়ানেট নিউজ বাংলা। তিনি আন্দুল নারায়ণা কোভিড হসপিটাল বা হাওড়ার টি এল জয়সওয়াল হাসপাতালে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। 

সম্প্রতি কলকাতায় আইসিএমআর-এর উন্নতমানের ল্যাবের ভার্চুয়াল উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সেই ভাার্চুয়াল অনুষ্ঠানে ছিলেন মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। সেখানেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে রাজ্য়ে ফ্রিতে করোনা চিকিৎসার কথা বিশ্বকে জানাতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। গর্বের সেই ঘোষণায় আজ কালি  লাগালেন এক রোগী। এদিন মৌমিতা ঘোষের ফেসবুক লাইভের পর স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তি বাড়বে মমতার। 

লাইভে ওই রোগী বলেছেন, তিনি যে চিকিৎসালয়ে রয়েছেন সেখানে পচা ডিম খাওয়ানো হচ্ছে। ৬দিন ধরে এইসব বিষয়ে মুখ খোলেননি তিনি। সকাল থেকেই তার বুকে যন্ত্রণা শুরু হয়েছে। বার বার বলা সত্ত্বেও কোনও চিকিৎসক বা নার্স দেখতে আসেননি। এমনকী অক্সিজেন চেয়েও তা পাননি। তিনি যেখানে রয়েছেন,  সেখানে সবাইকে এভাবে  এনেই মেরে ফেলা হচ্ছে। ইতিমধ্য়েই ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে যুবতীর লাইভ ভিডিয়ো। তার কথা কোনওক্রমে সংবাদমাধ্য়মের কাছে পৌঁছনোর কাতর আর্জি জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি রাজ্য়ের চিকিৎসার এই পরিস্থিতি সোশ্য়াল মিডিয়ায় শেয়ার করতে বলেছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় করোনা রোগীর সমস্যার খবর পাওয়া মাত্রই, হাওড়ার টি এল জয়সওয়াল হাসপাতালে পৌঁছন রাজ‍্যের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লা। সেখানকার সুপার ও ডাক্তারের সঙ্গে রোগীর শারীরিক অবস্থার খোজখবর নেন তিনি। ফোনে করোনা রোগীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ভিডিয়ো কলিংয়ে রোগীর সঙ্গে কথা বলানোরও চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, মৌমিতা ঘোষের শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক। ওনার পালস ৭২, ১২০-৮০ রক্তচাপ, ৯৮ স্যাচুরেশন, ৯৯ ব্লাড সুগার। এমনকী ওনার কোনও জ্বরও নেই। যা শুনে স্বস্তি  পান লক্ষ্মী। তবে প্রয়োজনে ফের পিপিই কিট পরে ওনার সঙ্গে দেখার করার আশ্বাস।