একটি নয়, উড়ালপুলের তিনটি পিলারে দেখা দিল ফাটল। তড়িঘড়ি বন্ধ করে দেওয়া হল উড়ালপুল। পুলের স্বাস্থ্য় পরীক্ষা করতে এলেন পূর্ত দফতরের আধিকারিকরা। শেষে আপাতত মেরামতের জন্য সব গাড়ির যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেল মহেশতলার সম্প্রীতি  উড়ালপুলে। 

বছর না ঘুরতেই মহেশতলার সম্প্রীতি উড়ালপুলে ফাটল। স্থানীয়রা জানান, এদিন সকালে প্রথম ফাটল চোখে পড়ে এলাকাবাসীর। পূর্ত দফতরে খবর যেতেই চলে আসেন ইঞ্জিনিয়াররা। দেখা যায়, টি১২১, ১১৯ ও পি১২২–এই তিনটি পিলারে ফাটল রয়েছে। এরপরই উড়ালপুল মেরামত না হওয়া পর্যন্ত গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। 

স্থানীয়দের  অভিযোগ, প্রথম থেকেই এই জয়েন্টে গাড়ি গেলেই আওয়াজ হতো। সেই নিয়ে লার্সন এবং টুবরো কোম্পানিকে জানানো হলেও তারা কোনও কর্ণপাত করেনি। আজ সকাল এগারোটা  নাগাদ স্থানীয়রা  ফাটল দেখতে পেয়ে মহেশতলা থানায় খবর দেয়। সেই সময় মহেশতলা থানা মাইকিং করে উড়ালপুলের যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেয়। প্রশ্ন উঠছে, ১১ ই জানুয়ারি ২০১৯ যে ব্রিজের উদ্বোধন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় করেছিলেন, তার এত তাড়াতাড়ি  নাজেহাল অবস্থা হল কেন?

মহেশতলা, বাটানগর, বজবজ, পুজালি প্রভৃতি এলাকার মানুষের কাছে এই উড়ালপুল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৯-এর ১১ জানুয়ারি জিঞ্জিরাবাজার থেকে বাটানগর পর্যন্ত সম্প্রীতি উড়ালপুলের উদ্বোধন হয়।কলকাতার সঙ্গে বাটানগর ও বজবজকে যুক্ত করেছে এই উড়ালপুল। বজবজ ট্রাঙ্ক রোড গাড়ির সংখ্য়ার তুলনায় ছোট হওয়ায়, ওই রাস্তায় নিত্যদিন যানজট লেগেই থাকত। সেই সমস্যা সমাধানে বাটানগর উড়ালপুল নির্মাণের কথা ভাবা হয়। ২০১৪ সালে এই উড়ালপুলের কাজ শুরু হয়। যাত সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে প্রায় তিনশো কোটি টাকা।

কিন্তু দেখা যায়, পুলের বয়স ৬ মাস না যেতেই একাধিক জায়গায় পিচ উঠে খাবলা হয়ে যায়। এরপরইে নির্মাণের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। দীর্ঘদিন হয়ে গেলেও এখনও  মাঝেরহাট ব্রিজ তৈরি হয়নি।  সেকারণে কলকাতা থেকে তারাতলা পৌঁছতেই অনেকটা সময় লেগে যায়। নতুন করে সম্প্রীতি উড়ালপুল বন্ধ হওয়ায় আরও দুর্ভোগ বাড়ল বজবজ, মহেশতলা, বাটানগরের যাত্রীদের।