শীত না আসার অন্য়তম কারণ হল পশ্চিমি ঝঞ্ঝা। তাই উত্তুরে হাওয়া আসতে পারেনি কলকাতা সহ জেলা গুলিতে। তার উপর প্রায়দিন প্রায় মেঘলা আকাশ থাকার দরুণ ঠান্ডা লাগছিল না । কিন্তু সেই পরিস্থিতি কেটে গেছে, এমনটাই জানিয়েছেন হাওয়া অফিসের কর্তারা।  সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে পারদ আরও নিম্মমুখী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কলকাতায় আজ পরিষ্কার আকাশ। রাতের তাপমাত্রা অর্থাৎ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে তিন ডিগ্রি কম গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে ৪ ডিগ্রি কম।আজ সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১.৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস যা স্বাভাবিকের থেকে তিন ডিগ্রি কম।গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা স্বাভাবিকের থেকে ৪ ডিগ্রি কম। আবহাওয়া দফতরের খবর অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকতে পারে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পারদ ছুঁতে পারে ১৩  ডিগ্রি সেলসিয়াস। শহরের বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বাধিক ৯৬  শতাংশ। আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ন্যূনতম ৫৪ শতাংশ।  এই মুহূর্তে শহরের তাপমাত্রা  ১৪  ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আরও পড়ুন, অপহরণের গল্প ফেঁদে প্রেমিকের সঙ্গে রাত্রিবাস স্ত্রীর, স্বামীর এফআইআর-এ ঝুলি থেকে বেরলো বেড়াল

বৃহস্পতিবার , ডায়মন্ড হারবার এর তাপমাত্রা ১১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস,ক্যানিং  এর তাপমাত্রা ১১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস,মেদিনীপুর   এর তাপমাত্রা ১০.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, কাঁথি   এর তাপমাত্রা ১২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস,হলদিয়া  এর তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং দিঘার তাপমাত্রা এই মুহূর্তে ১০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কনকনে ঠান্ডা জলের স্নান সারতেও আলশ্য় লাগছে পর্যটকদের। 

অপরদিকে, বারাকপুর  এর তাপমাত্রা ১০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস,বাঁকুড়া  এর তাপমাত্রা ৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, হুগলি  এর তাপমাত্রা ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বর্ধমান  এর তাপমাত্রা ৯.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বলতে গেলে কৃষ্ণনগর এর তাপমাত্রা অপেক্ষাকৃত বেশি, ১৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পানাগড়ের তাপমাত্রা ৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং শ্রীনিকেতনের তাপমাত্রা ৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আসানসোল এর তাপমাত্রা ৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস,  কলাইকুন্ডা  এর তাপমাত্রা ৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, কোচবিহার  এর তাপমাত্রা ৯.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস,  মালদা  এর তাপমাত্রা ১০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, জলপাইগুড়ি  এর তাপমাত্রা ১০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস,শিলিগুড়ি  এর তাপমাত্রা ৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং   দার্জিলিং  এর তাপমাত্রা এগুলিকেও ছাড়িয়ে  ৪.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। 

আরও পড়ুন, 'ভুল বুঝিয়ে রাজ্যে ছড়াচ্ছে হিংসা', মুর্শিদাবাদ ও মালদহে যাওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ রাজ্যপালের

শীত পড়ছিল না বলে, প্রায় মুষড়ে পড়েছিল রাজ্য়বাসী। আর গতকাল রাতের পর থেকে হিমেল হাওয়ার স্রোত কাঁপিয়ে দিয়েছে সাধারণ মানুষকে। লেপ, কম্বল এতদিন যারা বার করতে পারেননি বলে আফশোষ করছিলেন, এবার তারাও খুশি। আশা করা যাচ্ছে, জাঁকিয়ে শীত পড়ার কারণে রোগ-জীবাণুর পরিমানও কমে আসবে। বিদায় নেবে সর্দি-কাশি-জ্বর। তাই ঘুরতে গিয়ে ঠকঠক করে কাঁপলেও শীতের আমেজে  কমলালেবু খোসা ছাড়াতে ছাড়াতে মিঠে রোদের তাপ নিতে ভূলবেন না।