মালদহ ও মুর্শিদাবাদের ঘটনায় তিনি ব্য়থিত। রাজ্য সরকারের অনুমতি নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, 'রাজনীতিবিদরা কি করবেন, জানা নেই। আশা করি, প্রশাসন পদক্ষেপ করবে। মুখ্যমন্ত্রী আলোচনায় বসবেন। এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।' রাজ্যের পরিস্থিতি মোকাবিলায় নাগরিক সমাজকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়।

এ রাজ্যে নাগরিকত্ব আইন বিরোধী আন্দোলনে হিংসা নিয়ে বারবারই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। আপত্তি তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মিছিল নিয়েও।  রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য গত রবিবার রাতে মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা ও রাজ্য পুলিশের ডিজি তলব করেছিলেন রাজ্যপাল।  কিন্তু সোমবার রাজভবনে যাননি রাজ্য প্রশাসনের ওই দুই শীর্ষ আধিকারিকরা। তা নিয়ে টুইট উষ্মা প্রকাশ করেন রাজ্যে সাংবিধানিক প্রধান। অবশেষে বুধবার রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যসচিব ও রাজ্য পুলিশের ডিজি। তাঁদের সঙ্গে বৈঠকে পর সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যপাল জগদীপ ধানকড় বলেন, 'সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নাগরিকত্ব আইন পাশ হয়েছে। এই আইন সকলেরই মেনে চলা উচিত। এই আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমে গন্ডগোল পাকানোর অপরাধ।'  জগদীপ ধনকড়ের বক্তব্য, 'নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনে ভারতের কোনও নাগরিকের বিরুদ্ধে নয়। কিছু মানুষ ভুল তথ্য দিয়ে অশান্তি ছড়াচ্ছেন। শান্তিরক্ষায় নাগরিক সমাজকে এগিয়ে আসার অনুরোধ করছি। সকলে মিলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হবে।' মালদহ ও মুর্শিদাবাদে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল। 

 

উল্লেখ্য, গত সোমবার রাজ্যে শান্তিরক্ষায় সহযোগিতা আবেদন জানিয়ে  রাজ্যপালকে জগদীপ ধনকড়কে চিঠি দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চিঠিতে তিনি লেখেন, সরকার ও রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সমালোচনা করে আপনার ঘনঘন টুইট ও বিবৃতিতে আমার খারাপ লাগছে। আপনার কাজ এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারে পাশে থাকা। আমি নিশ্চিত আপনিও নির্দ্বিধায় একমত হবেন। সাংবিধানিকভাবে শান্তিরক্ষায় পাশে থাকুন। প্ররোচনা নয়, শান্তি রক্ষায় সহযোগিতা করুন।' চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার করে মুখ্যমন্ত্রীকে আলোচনার বসার প্রস্তাব দিয়ে পাল্টা টুইটও করেন রাজ্যপাল। কিন্তু  জগদীপ ধনকড়ের সঙ্গে এখনও পর্যন্ত বৈঠকে বসেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।