উত্তর ২৪ পরগনার জেলার দম দম ক্যান্টনমেন্টের ডেলিভারি বয় হলেন পথিকৃৎ। খাদ্য সরবরাহকারী সংস্থার নীতি অনুসারে, গ্রাহক একবার পথে যাওয়ার পরে যদি অর্ডারটি বাতিল করে দেয়, তাহলে একটি উপায় থাকে। সেই ডেলিভারি এক্সিকিউটিভের মাধ্যমে বাতিল হওয়া খাবার বাড়িতে নিয়ে যেতে পারে বা গরিবদের দেওয়া যেতে পারে। পথিকৃৎ এই সুবিধাটি জন স্বার্থে কাজে লাগায়। অভুক্ত লোকের মুখে খাবার তুলে দেয়। সবাই তাকে রোল কাকু নামে চেনে। 

একদিকে যেমন খাবার অপচয় হয়, সেই একই সঙ্গে অনেক মানুষ খেতে সারা দিন পায়না। পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতি বছর ভারতে ১৪ বিলিয়ন খাবার নষ্ট হয়,যেখানে প্রায় ১৯৪ মিলিয়ন ভারতীয় কোনও খাবারই পায়না।  অভাবগ্রস্থকে লোককে খাওয়ানোর পরিবর্তে পুরোপুরি ভাল খাবার ফেলে দেওয়া হয়। আর এই উপলব্ধিতে ভারতীয়দের এখনও কিছুটা সময় লাগতে পারে, তবে পশ্চিমবঙ্গ ইতিমধ্যেই সেই সারিতে প্রথম। 

 পথিকৃৎ শিশুদের একটি সরকারী স্কুলে ভর্তি করার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছিলেন। তিনি তাদের সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেন। তাদের সবাইকে স্টেশনারি, বই, ব্যাগ, ইউনিফর্ম ইত্যাদির জন্য অনুদানের অনুরোধ করেছিলেন। তিনি এই অনুরোধটি ফেসবুকে পোস্ট করেন এবং কাছাকাছি প্রতিটি বাড়িতেও গিয়েছিলেন এবং ভাগ্যক্রমে, ইতিবাচক সাড়া পান। বর্তমানে যে ২১ শিশু, যারা একসময় খাবার ও অর্থের জন্য ভিক্ষা করত, তারা এখন সরকারী বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে।