ডেঙ্গুতে শহরে মৃত্যমিছিল! একই দিনে কলকাতার তিন হাসপাতালে মারা গেলেন তিনজন। মৃতের মধ্যে একজন আবার কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য় বিভাগের কর্মী। আর একজনের স্ত্রীও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত।

মশা কামড়ে আতঙ্ক। শহর কিংবা জেলা, রাজ্যে ভয়াবহ আকার নিয়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। মঙ্গলবার বিধানসভায় খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই জানিয়েছে, এ রাজ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৪ হাজারেও বেশি। মারা গিয়েছেন ২৯ জন।  কিন্তু পরিস্থিতি যে আরও ভয়াবহ, তা মালুম হচ্ছে রোজই। চিকিৎসকরা বলছেন, চরিত্র বদলে ডেঙ্গু এখন আরও বেশি প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে চিকিৎসার শুরু আগেই মারা যাচ্ছেন রোগী। 

মঙ্গলবার দুপুরে বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান ভোলানাথ দাস নামে এক যুবক। পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরার বাসিন্দা ছিলেন তিনি।  শিক্ষকতা করতেন স্থানীয় একটি প্রাথমিক স্কুলের। বৃহস্পতিবার রাতে জ্বরের উপসর্গ নিয়ে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন ভোলনাথ। পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন, রাতেই তাঁর শারীরিক অবস্থায় আরও অবনতি হয়। তড়িঘড়ি ওই প্রাথমিক শিক্ষককে ভর্তি করা হয় বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতাসে।  কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। মঙ্গলবার দুপুরে মারা যান ভোলানাথ দাস। বাড়ির লোকেদের বক্তব্য, তাঁর ডেঙ্গু হয়েছে বলে সন্দেহ করেছিলেন চিকিৎসকরা। কিন্তু রক্ত পরীক্ষা করার আর সুযোগ মেলেনি।  বস্তুত, মৃতের স্ত্রীও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত কলকাতার ইনস্টিটিউট অফ ট্রাপিক্যাল মেডিসিনে ভর্তি। স্বামীর মৃত্যু পর তাঁকে হাসপাতাল ছাড়িয়ে নিয়ে ডেববার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গিয়েছেন পরিবারের লোকেরা। শুধু তাই নয়, কয়েক মাস আগে ভোলানাথ দাসের এক কাকাও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বলে অভিযোগ। 

এদিকে উত্তর ২৪ পরগণার পলতার  এক বাসিন্দাও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি ছিলেন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। মঙ্গলবারা মারা গিয়েছেন তিনিও।  কলকাতা ট্যাংরার বাসিন্দা সান্তনা বন্দ্যোপাধ্যায় চাকরি করতেন কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগে। ডেঙ্গু প্রাণ কেড়েছে ওই মহিলার। মঙ্গলবার সকালে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রয়াত হয়েছেন তিনি।