বিশ্বের পর ভারতেও লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। বেগতিক দেখে প্রতিদিন দেশবাসীকে সচেতনতার পাঠ পড়াচ্ছে স্বাস্থ্য় মন্ত্রক। করোনা থেকে বাঁচতে মাস্ক পড়ার নিদান দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। এবার সেই মাস্কের বিকল্প বললেন বিজেপির রাজ্য় সভাপতি। রাজ্য়ে মাস্ক না পাওয়া গেলে পরিষ্কার কাপড় কেটেই সুতো দিয়ে বেঁধে পরতে বললেন এই বিজেপি নেতা। 

সাধারণ মাস্কে কাজ হবে না। তাই করোনা আটকাতে অনেকেই পি ওয়ান মাস্কের নিদান দিচ্ছেন। মেডিকেল স্টোরে গিয়ে নানা মাস্কের চরিত্র খুটিয়ে দেখছেন গ্রাহকরা। পাছে সাধারণ মাস্কে করোনা না আটকায়, তাই বেশি প্রতিরোধী মাস্কের দিকেই ঝুঁকছেন সবাই। এ রকম একটা সময়ে মাস্কের বিকল্প বাতলে বিতর্কের সৃষ্টি করলেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর সুতো কাপড় দিয়ে মাস্ক তৈরির নিদান ইতিমধ্য়েই ছড়িয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।   

বৃহস্পতিবার বিজেপির রাজ্য সদর দফতরে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ৷ সেখানে মাক্সের আকাল নিয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে, দিলীপ ঘোষ বলেন,চায়না থেকে কম দামে মাক্স আসত ভারতে৷ এখন সেখানে যা পরিস্থিতি ,তাতে সেখানেই প্রচুর মাক্স প্রয়োজন৷ তাই চায়না থেকে ভারতে মাক্স সাপ্লাই হচ্ছে না৷ করোনা রুখতে মাস্ক ও স্যানেটাইজার ব্যবহার করার কথা বলেন দিলীপবাবু৷ যদিও পরে মাস্ক না থাকলে বাড়িতে পরিষ্কার কাপড় কেটে সুতলি দিয়ে বেধে নেওয়ার কথা বলেন তিনি। বিজেপির রাজ্য় সভাপতি  বলেন, ভাইরাসের সাইজ বড় হওয়াতে সাধারণ কাপড়ে নাকি এই ভাইরাস আটকানো যাবে৷

ক্রমেই এদেশে ভয়ানক হচ্ছে পরিস্থিতি। বৃহস্পতিবার ফের একবার লাফিয়ে বাড়ল করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। এখনও পর্যন্ত এদেশে ৭৩ জনের শরীরে কোভিড-১৯ ভাইরাস পাওয়া গিয়েছে বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রক সূত্রে জানা যাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সমস্ত ভিসা বাতিল করে দিয়েছে ভারত সরকার। প্রয়োজন ছাড়া ভারতীয়দের বিদেশে যেতে নিষেধ করা হচ্ছে। 

করোনা মোকাবিলায় কেন্দ্র আরও বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন। মন্ত্রী জানান দেশের সব বিমানবন্দরেই স্ক্রিনিং শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সকলকে পাশে থাকার আবেদন  জানিয়েছেন ডক্টর হর্ষ বর্ধন। দেশের ৫১টি  গবেষণাকরোনাকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু বিশ্বব্যাপী মহামারী ঘোষণার পর হরিয়ানা সরকারও নিজেদেক রাজ্যে সেই পথে এগিয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার সংসদে কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রী এস জংশকর জানান, ইরানে আটকে রয়েছে ৬ হাজার ভারতীয়। এদের মধ্যে মহারাষ্ট্র ও জম্মু-কাশ্মীরের ১,১০০ জন পূণ্যার্থী রয়েছেন। রয়েছেন ৩০০ জন পড়ুয়াও। ভারত সরকার সকলকেই দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে আশ্বস্ত করেছেন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী।

তবে করোনা নিয়ে নিজের উদ্বেগ চেপে রাখেননি বিদেশমন্ত্রী। সংসদে জয়ংশকর জানিয়েছেন, "অভুতপূর্ব পরিস্থিতিতে অভুতপূর্ব প্রস্তুতি নিতে হবে।" সাধারণ মানুষের উদ্দেশে বিদেশমন্ত্রীর আহ্বান, "খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বিদেশে যাবেন না।"

দেশে এখনও পর্যন্ত ৭৩ জনের শরীরে করোনার ভাইরাস পাওয়া গিয়েছে। এদের মধ্যে ৬ জন রাজধানীর বাসিন্দা। হরিয়ানায় চিকিৎসারত রয়েছেন ১৪ জন। এরা সকলেই বিদেশি নাগরিক। কর্মাটকে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত ৪ জন। কেরলে আক্রান্তের সংখ্যা ১৭। মহারাষ্ট্রে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১১। রাজস্থানে চিকিৎসা চলছে ৩ জনের। এদের মধ্যে ২ জন বিদেশি নাগরিক। উত্তরপ্রদেশে করোনা ভাইরাসের দেখা মিলেছে ১১ জনের দেহে। এদের মধ্যে ১ বিদেশি নাগরিক।