দলে থেকেও দিলীপ ব্রিগেডের কাছে দূরের মানুষ তিনি। বেশ কয়েক বছর কেটে  গেলেও পদ্মে এখনও 'ফরেন বডি' মুকুল রায়। রাজ্য় বিজেপিতে দিলীপ-মুকুলের দ্বন্দ্ব যে পুর নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে তা বুঝতে পারছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বেগতিক দেখে রাজ্য়ে এখন দিলীপের পাশাপাশি মুকুলকেও সামনের সাড়িতে রাখতে চাইছে দিল্লির নেতারা।  

পুলিশ ধরার আগেই 'চিরঘুমে' রোদ্দুর, ফেসবুকে ঘুরে বেড়াচ্ছে 'রেস্ট ইন পিস'

শোভন চট্টোপাধ্যায় নিয়ে চিন্তার অন্ত নেই। দলে থেকেও নিষ্ক্রিয় থাকায় তাঁর বিষয়ে খোঁজ নিয়েছেন খোদ সর্বভারতীয়  সভাপতি। পুর নির্বাচনের আগে প্রাক্তন মেয়রকে সক্রিয় করতে বঙ্গ বিজেপির নেতাদের দায়িত্ব দিয়েছেন জেপি নাড্ডা। সূত্রের খবর, মুকুলের কাছের লোক হওয়ায় শোভন নিয়ে মাথাব্যথা নেই দিলীপের। নিজেও মুকুলের থেকে দূরত্ব বজায় রাখেন দিলীপ। যা নিয়ে ঘোর 'আপত্তি' রয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের। 

১৫ লক্ষ টাকার শৌচাগার, তৃণমূল নেতার 'কীর্তি দেখে' হতবাক প্রশান্ত কিশোর

মুরলীধর স্ট্রিটে কান পাতলে শোনা যায়, তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরপরই মুকুলের বিষয়ে বঙ্গ  বিজেপিতে নরম হওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন অমিত শাহরা। সেই অনুযায়ী একসঙ্গে কাজ শুরু করেন দুজনে। কিন্তু কিছুদিন যেতেই 'ঘোষ  মশাইয়ের' আধিপত্য়ে দলে মুকুল এখনও 'ফরেন বডি'। 

করোনা সন্দেহে পর্যবেক্ষণে ২৩, ঘুম ছুটল রাজ্য়বাসীর

তাঁর নেতৃত্বে ২ থেকে ১৮ তে এসেছে দল। লোকসভা  নির্বাচনে বিপুল সাফল্য পেয়েছে বিজেপি। তাই ফের সভাপতি করে আনা হয়েছে দিলীপ ঘোষকে। যদিও কেন্দ্রীয় বিজেপির একাধিক নেতার দাবি, একলা দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে রাজ্য়ে  লোকসভা ভোটে সাফল্য় পায়নি বিজেপি। এক্ষেত্রে  বড় কাজ করেছে  মোদী হাওয়া। তবে ক্লিক করে গিয়েছে 'দিলীপ-মুকুল উইনিং  কম্বিনেশন'। যদিও হাজার সাফল্য়ের কারিগর হয়েও দলে 'ফরেন বডি' হয়ে থেকে গিয়েছেন মুকুল। যে কারণে রাজ্য় থেকে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে বেশি দেখা যায় তাঁকে। ২১-এর নির্বাচনে এই বিষয়টাই ভাবাচ্ছে মোদী-শাহদের। 

অতীতে একবার প্রকাশ্য়েই বাক্য়বানে জড়িয়েছিলেন রাজ্য় বিজেপির দুই যুযুধান। একটি পোর্টালে  মুকুল রায় সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য় করেছিলেন দিলীপ। গোপন রেকর্ডিংয়ে দিলীপ বলেন, দলে মুকুলের থেকে অনেক বড় নেতা রয়েছে। মুকুল রায় কোনও নেতাই নয়। বিজেপির রাজ্য় সভাপতির এই বক্তব্য়  প্রকাশ্য়ে আসতেই শুরু হয় বিতর্ক। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে , পাল্টা জবাব দেন মুকুলও। এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে মুকুল বলেন, কে বড় নেতা সেটা মানুষ ঠিক করবে। 

শোনা যায়, দলের দুই হেভিওয়েট নেতার এই বক্তব্য় ঘিরে সরগরম হয়ে ওঠে বিজেপির রাজ্য় রাজনীতি। সেবার দিল্লির  নেতাদের হস্তক্ষেপে কোনওমতে এই আগুনে ছাই চাপা দেয় শাহ ব্রিগেড। দিলীপ ঘনিষ্ঠদের মতে, দলে পুরোনোদর সঙ্গে তৃণমূল থেকে আসা নব্য়দের দাপাদাপি ভালো চোখে দেখেন না পুরাতনরা। লোকসভা ভোটের আগে প্রার্থী নির্বাচন নিয়েও দু জনের মধ্য়ে অল্প বিস্তর ঠোকাঠুকি লেগেছে। কিছুদিন  আগেও দলে শোভন-বৈশাখী নিয়ে মুকুলের সঙ্গে দিলীপের দ্বৈরথ একপ্রকার সামনে চলে আসে। 

সূত্রের খবর, দিলীপ-মুকুলের এই ইগোর লড়াই অমিত শাহর  কাছেও পৌঁছেছে। দিলীপ যেখানে আরএসএস থেকে উঠে এসেছেন, সেখানে একেবারে 'একনায়কতান্ত্রিক' দলের নেতা ছিলেন মুকুল। কিন্তু মুকুলের 'পার্টিগণিত' সম্পর্কে জ্ঞান উপলব্ধি করেছেন কৈলাস বিজয়বর্গীয় থেকে মুরলীধর রাও, অরবিন্দ মেননের মেতা  নেতারা। লোকসভা নির্বাচনে বিপুল সাফল্য়ের পর খোদ  তিন বিদানসভা উপনির্বাচনে হার ভাবাচ্ছে তাঁদের। সবথেকে বড় বিষয়, দলের রাজ্য় সভাপতি হয়ে নিজের খড়গপুরের বিধানসবা আসন ধরে রাখতে পারেননি দিলীপবাবু। মনে করা হচ্ছে , মুকুল সক্রিয় না হওয়ায় এরকম একটা পরিস্থিতি হয়েছে রাজ্য় বিজেপিতে।