রোগীর আগে কোভিড টেস্টের একাধিক রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। এবং পরে রিপোর্টে কোভিড পজ়িটিভ মিলেছে। সল্টলেকেই আর এক বেসরকারি হাসপাতালে তিন জন রোগীর কোভিড রিপোর্ট প্রথমে পজ়িটিভ,  পরে নেগেটিভ এবং তার পরে ফের পজ়িটিভ এসেছে। এই বদলের ব্য়াক্ষা দিয়েছেন শহরের চিকিৎসকেরা।  উল্লেখ্য় ইতিমধ্য়েই রিপোর্ট বিভ্রাটের পর বাঙ্গুর হাসপাতালে প্রাণ হারিয়েছেন এক করোনা আক্রান্ত।

জানা গিয়েছে, এই ধরনের 'ফলস নেগেটিভ' বা 'ফলস পজ়িটিভ' রিপোর্ট আসার পিছনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কারণকে চিহ্নিত করেছেন চিকিৎসকেরা।  চিকিৎসক শ্যামাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য়, 'প্রি টেস্ট প্রোবাবিলিটি'-র সঙ্গে র‌্যাপিড পলিমার চেন রিঅ্যাকশন (আরটি-পিসিআর) টেস্ট করলে তবে সঠিক ফল আসার সম্ভাবনা থাকবে। কারও শরীরে কোভিডের মতো উপসর্গ দেখা দেওয়ার ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্য়েই লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা উচিত। নমুনা সঠিক পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা এবং সেটা সঠিকভাবে কোল্ড চেন রক্ষা করে পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া ও চার ঘণ্টার মধ্যে ল্যাবে পরীক্ষা করাটাও জরুরি।' পাশাপাশি চিকিৎসক শুশ্রুত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, 'লালারস বা গলা থেকে রস নমুনা হিসাবে সংগ্রহের পাশাপাশি নাকের থেকেও সোয়াব নেওয়া উচিত। কোভিডের মতো উপসর্গ থাকলেও রিপোর্ট যদি নেগেটিভ আসে তা হলে রোগীকে কিছু দিন আইসোলেশন ওয়ার্ডে নজরদারিতে রেখে একাধিক বার তাঁর নমুনা পরীক্ষা করতে হবে। তার পর নিশ্চিত হতে বুকের সিটি স্ক্যান করতে হবে। তাতেও নেগেটিভ এলে তবে বলা যাবে রিপোর্ট নেগেটিভ।'


উল্লেখ্য, আমহার্স্ট স্ট্রিটের এক বাসিন্দা জ্বর,সর্দি-কাশি সহ বাঙ্গুর হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর ওই করোনা উপসর্গের রোগীর রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় পর দিন হাসপাতাল ডিসচার্জ সার্টিফিকেট দেয়। বাড়িতে পাঠানো হয়  তাঁকে।  ওই বৃদ্ধের তখনও তাঁর কাশি ছিল। বাড়ির লোকেদের সঙ্গে খোলা মনে মেলামেশাও করেন। এরপর সেই রিপোর্টে ভূল তথ্য় আসায় ফের রোগীকে ডেকে পাঠায় হাসপাতাল। অ্যাম্বুল্যান্স করে আবার হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয় আমহার্স্ট স্ট্রিটের ওই বৃদ্ধকে। ফিরিয়ে আনার পরে বাঙ্গুর হাসপাতালেই করোনা আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে এখন রীতিমত আতঙ্কে মৃতের ছেলে ও তাঁর পরিবার।