দীর্ঘ সাত বছর ধরে বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করত। পাশাপাশি অসুস্থ বৃদ্ধের দেখাশোনাও করত। কিন্তু সেই পরিচারিকারই যে তার দুই জামাইকে সঙ্গে নিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেবে তা কল্পনাও করতে পারেননি আনওয়ার শাহ রোডের বাসিন্দা অনুরাগ আগরওয়াল। 

গত পয়লা জুন যাদবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন আনওয়ার শাহ রোডের বাসিন্দা অনুরাগ আগরওয়াল। তিনি জানিয়েছেন তাঁর বাবা সত্যনারায়ণ একাই থাকতেন। তাঁকে দেখাশোনা করত নদিয়ার নাকাশিপাড়ার বাসিন্দা রীতা রায় নামের এক মহিলা। গত জানুয়ারি মাসে সত্যণারায়নের মৃত্যু হয়। তারপরই কাজ চলে যায় রীতার। কিন্তু  মার্চ মাস থেকেই অনুরাগ আগরওয়াল খেয়াল করেন তাঁর বাবার একটি বেসরকারি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে  মাঝে মাঝেই টাকা গায়েব হয়ে যাচ্ছে। মার্চ থেকে জুন এই তিন মাসে দফায় দফায় প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। 


পুলিশ তল্লাশি শুরু করে। ব্য়াঙ্ক থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই পুলিশ জানতে পারেন হুগলির গুপ্তিপাড়া আর নদিয়ার করিমপুর থেকে ওই টাকা তোলা হয়েছে। তারপরই এই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ। দেখা যায় মাস্ক ও টুপি পরা দুই ব্যক্তি টাকা তুলছে। এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলার পরই সনাক্ত করা হয় রীতা ও তার দুই জামাই  রঞ্জিত মল্লিক ও সৌমিত্র সরকারকে। তারপরই পুবলিশের গোয়েন্দা বিভাগ তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। 

পুলিশের  জেরা তাঁরা এটিএম থেকে টাকা তোলার কথা স্বীকার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে সত্যনারায়ণের মৃত্যুর পরেও রীতা তাঁর একটি এটিএম কার্ড চুরি করে। সেটি নিয়েই বাড়িতে চলে আসে। তারপর সেই এটিএম কার্ড তুলে দেয় জামাইয়ের হাতে। তারপর থেকে  দফায় দফায় ৩৬ লক্ষ টাকা ব্যাঙ্ক থেকে তুলে নেওয়া হয়। তবে ২৭ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি টাকা তারা খরচ করে ফেলেছে বলেও জানিয়েছে।