আজ বৃহস্পতিবার বহু প্রতীক্ষিত ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর শুভ উদ্বোধন। তবে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো আগের থেকে অনেক বেশী স্মার্ট।মেট্রো সূত্রে জানা গিয়েছে, রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল উদ্বোধন করবেন। সেক্টর ফাইভ স্টেশনে হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। প্রথম পর্যায়ে ইস্ট-ওয়েস্ট চলবে সেক্টর ফাইভ স্টেশন থেকে সল্টলেক স্টেডিয়াম স্টেশন পর্যন্ত। ৫.‌৮ কিলোমিটার এই পথে ট্রেন অতিক্রম করবে ৬ টি স্টেশন। উদ্বোধনের দিন এই গোটা পথটাই অতিক্রম করা হবে।  

 

 

আরও পড়ুন, কলকাতা মেট্রো ছত্রিশ ছুঁইছুঁই, ছবিতে ফিরে দেখা যাক সেই ইতিহাস

ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো-র খুঁটিনাটি বিষয়গুলি একটু জেনে নেওয়া যাক। ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো-র সেক্টর ফাইভ থেকে সল্টলেক স্টেডিয়াম পর্যন্ত  প্রতি ২০ মিনিট অন্তর মেট্রো পরিষেবা থাকবে। ভাড়া নেওয়া হবে প্রথম ২কিমির জন্য় ৫ টাকা এবং সর্বাধিক ১০ টাকা।ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো গতিবেগ ৮০ কিমি প্রতি ঘন্টা।পুরো যাত্রাপথ যেতে সময় লাগবে ১৪ মিনিট। অবশ্য় ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোতেও স্মার্ট কার্ড ব্য়বহার করা যাবে। এছাড়াও জরুরী অবস্থায় কথার জন্য় থাকছে মাইক্রোফোন,প্রত্য়েক কামরায় থাকছে একটি করে হুইল চেয়ার। প্রতিটি স্টেশনে থাকছে শৌচালয় এবং থাকছে একাধিক এসকেলেটর, লিফট।প্ল্য়াটফর্মে দুর্ঘটনা এড়াতে থাকছে বিশেষ স্কিন ডোর এবং ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো সবকটা ট্রেনই বাতানুকূল করা হয়েছে। ট্রেন নিয়ন্ত্রণের সব ব্য়বস্থাই স্বয়ংক্রিয় থাকছে। প্রতি কামরায় থাকছে ডিসপ্লে বোর্ড এবং ৪ সিসি ক্য়ামেরা।

 

 

ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো-র কাজ শুরু থেকে উদ্ভোদনের দিকে একবার খেয়াল রাখা যাক। ২০০৯ থেকে নির্মান  শুরু হয় ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো-র কাজ। এর দায়িত্ব দেওয়া হয় স্পেনের একটি সংস্থাকে। কিন্তু  ২০১২তে বৌবাজারে থমকায় ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো-র কাজ। ২০১৫ সালে যাত্রাপথ বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তারপর ২০১৬ তে আসে, কোচ নির্মানের বরাত। ২০১৮তে এসে পৌছয় ডেমো মেট্রো কোচ। এদিকে আবার ২০১৯ চালকের প্রস্তুতির অভাবে পিছোয় উদ্বোধনের দিন। তারপর অবশেষে আসে সেই বহু  প্রতীক্ষিত দিন। ২০২০, ১৩ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ আজ বৃহস্পতিবার শুভ উদ্ভোদন হয় ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো-র।

 

 

আরও পড়ুন, মমতার স্বপ্নের ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর উদ্বোধন কলকাতায়, অথচ ব্রাত্য় খোদ মুখ্য়মন্ত্রী


মেট্রো সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার একটি ট্রেনই চালানো হবে। যাত্রীদের নিয়ে পরের দিন থেকে পুরোদমে ট্রেন চলবে।  উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখার জন্য়  এলইডি পর্দারও ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের জায়গা ও স্টেশনকে নজর রাখা হবে। এর জন্য খোলা হচ্ছে বিশেষ কন্ট্রোল রুম। যেখানে থাকবেন আরপিএফের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। উদ্বোধনের দিন স্টেশনে বম্ব ডিসপোজাল কর্মীদের সঙ্গে রাখা হবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরদের। জানা গিয়েছে, অনুষ্ঠানের জায়গাটির নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকবে আরপিএফের ওপর। প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবারও সেক্টর ফাইভ স্টেশনে যান আরপিএফের আধিকারিকরা।