কক্স এন্ড কিংস। বিশ্বের প্রথম সারির পর্যটন সংস্থা বলে পরিচিত ছিল। কিন্তু ২০১৯ এর অক্টোবরে আচমকা বন্ধ হয়ে যায় সংস্থাটি। তারপর ২০১৯-এর জুন মাস পর্যন্ত বেতন পেয়েছেন ওই নামজাদা সংস্থার কর্মীরা। কিন্তু তারপর থেকে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে তাঁদের কোনও বেতন দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়. বেতন সহ অন্যান্য সুবিধা থেকেও বঞ্চিত তাঁরা। সারা ভারতের বিভিন্ন জায়গায় সংস্থার অফিস রয়েছে  সংস্থাটির। কিন্তু অফিস গুলি বর্তমানে বন্ধ। কলকাতা শহরেও ওই সংস্থার অফিস ছিল। সেটিও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বকেয়া আদায় নিয়ে দিশেহারা অবস্থা কর্মীদের।

সংস্থার এক কর্মী আশরফ হোসেন জানান, গত এক বছর ধরে বকেয়া আদায়ের জন্য সম্ভাব্য বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন তাঁরা। সারা ভারতে ৪ হাজারের বেশি কর্মী রয়েছেন। তাঁদের মধ্য়ে প্রায় আড়াই হাজার কর্মী স্থায়ী ছিলেন। বাকিরা কাজ করতে চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে। পর্যটন সংস্থার জন্য ক্লায়েন্টেদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নামজাদা ওই সংস্থাকে দিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু আচমকা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেইসব টাকা ক্লায়েন্টদের ফেরত দিতে পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন ওই সংস্থার কর্মী। 

কক্স এন্ড কিংসের ভারতীয় শাখার প্রধান সুন্দর রঞ্জন আরও জানান, গত এক বছর ধরে মুম্বই, দিল্লি, কলকাতাতে তাঁরা আন্দোলন করেছেন। দিল্লিতে ইন্ডিয়া গেটের সামনেও বিক্ষোভ দেখিয়েছেন তাঁরা। মুম্বইয়ে শিবসেনা নেতাদের সঙ্গে দেখা করেও তাঁরা তাঁদের সমস্য়ার কথাগুলি জানিয়েছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সমস্য়ার কোনও সমাধান হয়নি। গত এক বছর ধরে নানা জায়গায় ধাক্কা খাচ্ছেন।

সংস্থার শীর্ষ কর্তা কৈলাশ দাঁতে জানান, কলকাতায় কক্স এন্ড কিংস পর্যটন সংস্থার কর্মী সংখ্যা রয়েছে প্রায় আড়াইশো জন। তাঁদের মধ্য়ে কয়েকজন অন্যান্য় জায়গায় চাকরি পেয়েছিলেন। করোনা আবহে লকডাউনের কারনে তাঁদেরও চাকরি চলে গিয়েছে। এই অবস্থা অগত্যা কোনও উপায় না দেখে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আন্দোলন শুরু করেছেন কক্স এন্ড কিংস সংস্থার কর্মীরা। উই ওয়ান্ট জাস্টিস ফর কক্স এন্ড কিংস এমপ্লয়ইজ নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার শুরু করেছেন ওই সংস্থার কর্মীরা।