দাবিদাওয়া নিয়ে সরকারি অফিসে ঘুরে ঘুরে জুতোর শুকতলা ক্ষয়ে গিয়েছে। তবু আসেনি কোনও সমাধান।  দেখাই পাওয়া দুস্কর বড়বাবু-মেজবাবুর। বাংলার এ এক চেনা ছবি। অনেকে তো জানতেও পারেন না সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করতে গেলে কোথায় যেতে হবে। জেলাগুলিতে প্রশাসনের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগও তথৈবচ। মানুষের সঙ্গে সরকারের এই দূরত্ব ঘোচাতেই নতুন দাওয়াই আনলেন মুখ্যমন্ত্রী।

নবান্ন সূত্রের খবর, জুলাই মাস থেকে সরকারি আধিকারিকদের শুনতে হবে জনতার 'মন কী বাত'। আপাতত স্থির হয়েছে, জুলাই থেকেই প্রতি সপ্তাহের  সোমবার দিন এই অভিযোগ শোনার দিন হিসেবে ধার্য করা হয়েছে। কী ভাবে কার্যকর হবে এই পরিষেবা?

  •  নবান্ন সূত্রে খবর প্রতিটি আধিকারিককে সোমবার দিন করে জনতার অভিযোগ শিনতে হবে।
  • আধিকারিক বলতে জেলাশাসক, মহাকুমা শাসক ও ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকদের বোঝানো হয়েছে।
  • নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট ব্লকের দায়িত্বে থাকা সরকারি আধিকারিককে উপস্থিত জনতার প্রত্যেকের কথা শুনতে হবে। 
  • শহর ও শহরতলি ছাড়িয়ে এই প্রতিটি ব্লকে কাজ করবে এই জনতার দরবার।

প্রসঙ্গত কাটমানি কাণ্ডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ খোলার পরে বহু রাঘব বোয়াল জালে ধরা পড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ভালই জানেন,  ওপর থেকে নীচে দুর্নীতি ছেয়ে গিয়েছে। দুর্নীতি দূরীকরণের দাওয়াই হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই  গ্রিভান্স সেল চালু হয়েছে। চালু হয়েছে টোল ফ্রি নম্বরও। সেই প্রক্রিয়াকে আরও ছড়িয়ে দিতে, গ্রামস্তরে জনসংযোগ বাড়াতেই এই হাতিয়ার ধরতে চাইছে সরকার। ইতিমধ্যেই নোটিশ পাঠানো শুরু হয়ে গিয়েছে ব্লক স্তরের অফিসগুলিতেও।  
সোমবার দিনকে গ্রিভান্স ডে হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। 

এই দাওয়াই কাজে এলে, কাজে স্বচ্ছতা আসবে, সরকারি কাজের জন্যে মানুষকে হাঁ করে চেয়ে থাকতেও হবে না। এবং শেষমেশ যে লাভের গুড় ভোটের বাক্সে পাওয়া যাবে, তা বিলক্ষণ জানেন তৃণমূল সুপ্রিমো।