রাজ্য-রাজ্যপালের মধ্য়ে চাপান উতরের মাঝেই ফের যাদবপুরকাণ্ড নিয়ে সক্রিয় হলেন রাজ্যপাল। রাজভবনে ডেকে পাঠানো হল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে। 

আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন রাজ্যে এসে তিনি রাজভবনে বসে থাকার পাত্র নন। তবে তিনি রাজ্যে কিছু হলে তিনি অ্যাক্টিভ থাকবেন, কখনোই প্রো অ্যাকটিভ হবেন না। যদিও রাজ্যপালের প্রতিনিয়ত মন্তব্য রাজভবনের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছে নবান্নের। ইতিমধ্য়েই যা নিয়ে মুখ খুলেছে তৃণমূল। দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্য়ায় বলেছেন, যাদবপুরকাণ্ডে তিনি কেন বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলন কেউ তাঁর জবাব চাননি। তা সত্ত্বেও তিনি নিজেই জবাব দিচ্ছেন। ওনাকে মনে রাখতে হবে রাজ্যপাল পদের একটা গরিমা আছে,তা বজায় রাখা উচিত। উনি রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান। 

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় বলেন,যাদবপুর বিশ্ববদ্যালয়ের পরিস্থিতি দেখে ওনাকে ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবক হিসাবে গিয়েছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসাবে কি আমার ওখানে যাওয়ার অধিকার নেই। মূলত, শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই এই কথা বলেছিলেন রাজ্যপাল। কারণ কদিন আগেই মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে উদ্ধারকাণ্ডে রাজ্য়পালের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল শাসক দল। দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছিল রাজ্যপালের। মুখ্য়মন্ত্রী বার বার অনুরোধ করা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্য়ালয়ে যান রাজ্যপাল। মুখ্যমন্ত্রী ওনাকে ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলে মীমাংসার আশ্বাস দিলেও কথা শোনেননি তিনি।এমনকী সেখানে গিয়ে পড়ুয়াদের বিক্ষোভের মুখে দেড় ঘণ্টা গাড়িতে বসে থাকেন।   

তবে এখানেই থেমে থাকেনি রাজ্য-রাজ্যপাল দ্বৈরথ। সম্প্রতি শিলিগুড়িতে রাজ্যপালের সভায় উপস্থিত ছিলেন না মন্ত্রী, জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকরা। যা নিয়ে সাংবাদ মাধ্য়েমর সামনেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন জগদীপ ধনখড়। তিনি বলেন, ভবিষ্য়তে জেলায় জেলায় এরকম আরও সভা করবেন তিনি। কেন তাঁর সভায় প্রশাসনের কর্তারা উপস্থিত ছিলেন না তাঁর খোঁজ নেবেন তিনি। বৃহস্পতিবার দেখা গেল রাজ্যপালের সেই সক্রিয় ভূমিকা। সূত্রের খবর, এদিন বিকেল চারটের সময় যাদবপুর বিশ্ববিদ্য়ালয় নিয়ে কথা বলতে  রেজিস্ট্রার, দুই সহ উপাচার্য ও উপাচার্যকে তলব করেছেন তিনি। জনা গেছে , এদিনই যাদবপুরকাণ্ডের রিপোর্ট দিতে পারেন উপাচার্য সুরঞ্জন দাস। রিপোর্টে কেন্দ্রীয মন্ত্রীকে হেনস্থার নিন্দার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে এবিভিপির তাণ্ডেবর সামালোচনা করা হয়েছে।