কাশ্মীরে পাঁচ বাঙালির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজনীতি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। শুধু তাই নয়, যাঁরা এই রাজনীতি করছেন, তাঁদের কড়া ভাষায় নিন্দাও করলেন রাজ্যপাল। একই সঙ্গে ফের একবার রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে কার্যত কাশ্মীরের সঙ্গে তুলনা করে বসলেন রাজ্যপাল। কাশ্মীরের ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, 'অপরাধ আর মৃত্যুর কথা বলতে গেলে তো সেরকম ঘটনা পশ্চিমবঙ্গেও যথেষ্ট ঘটছে।'

একই সঙ্গে কাশ্মীরের উন্নতি করার জন্য রাজ্যপালের গলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভূয়সী প্রশংসাও শোনা গেল। কাশ্মীরে পাঁচ বাঙালির হত্যাকাণ্ড নিয়ে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইচ্ছাকৃতভাবে বাঙালিদের হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি। ফলে এ দিন কাশ্মীরের ঘটনা নিয়ে রাজ্যপাল রাজনীতি করার অভিযোগ তুলে আসলে মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যের শাসক দলকেই খোঁচা দিলেন কি না, সে প্রশ্ন উঠছেই। 

এ দিন রাজভবনে বিজয়া সম্মিলনীর একটি অনুষ্ঠানের মধ্যেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নানা ইস্যুতে ফের একবার রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন ধনখড়। তার মধ্যেই উঠে আসে কাশ্মীর প্রসঙ্গ। ইতিমধ্যেই কাশ্মীরে আটকে থাকা বাঙালি শ্রমিকদের উদ্ধার করতে তৎপর হয়েছে রাজ্য প্রশাসন। দুই অফিসারকেও বিষয়টি দেখভালের জন্য নিয়োগ করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গেই রাজ্যপালকে প্রশ্ন করা হয় যে, 'কাশ্মীরে যে ঘটনা ঘটেছে তার রাজনীতিকরণের নিন্দা করি আমি। কাশ্মীর একটা পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। যাতে কাশ্মীরেরই ভাল হবে। যেভাবে কাশ্মীরের উপর থেকে ৩৭০ ধারার বোঝা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বর্তমান সংসদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। কাশ্মীর সঠিক পথে এগোচ্ছে। আমরা দু'টি নতুন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পেয়েছি। আমাদের সন্ত্রাসের নিন্দা করতে হবে, কিন্তু তার মধ্যে রাজনীতি টানলে হবে না। আমরা যদি অপরাধ আর মৃত্যুর দিকে তাকাতে যাই, তাহলে সেরকম অনেক ঘটনাই পশ্চিমবঙ্গে ঘটছে। আপনারা সবাই সবকিছু জানেন। ফলে আগে আমাদের নিজের ঘরের দিকে তাকাতে হবে। কীভাবে এই ধরনের ঘটনা আটকানো যায়, তা খুঁজে বের করতে হবে। এই ধরনের ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করাটা যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর পরিপন্থী। তাই সবার কাছেই আমার আবেদন থাকবে, এই ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করবেন না।'

কাশ্মীরের ঘটনা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ইচ্ছাকৃতভাবেই বাঙালিদেরল নিশানা করা হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এ  দিন রাজ্যপাল বলেন, 'সন্ত্রাসবাদীদের কী উদ্দেশ্য, তা নিয়ে কেন আমরা ভাবতে যাব? আমাদের সবারই উচিত এই ঘটনার নিন্দা করা। দেশকে ভালবাসেন এমন কোনও ভারতীয় কি কখনও সন্ত্রাসবাদীদের মদত দেওয়ার কথা ভাবতে পারেন?'

রাজ্যপাল আরও বলেন, 'এখানেও অনেক ঘটনা ঘটেছে, যেগুলি নিয়ে আমি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছি। কিন্তু আমি অপরাধের নিন্দা করেছি। প্রধানমন্ত্রী গোটা বিশ্বে গিয়ে বলেছেন, সন্ত্রাসের কোনও ধর্ম হয়না। সন্ত্রাস কোনও দেশের সীমারেখা মানে না। প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা দেখানোর কথা বলছেন। ফলে আমাদের সবাইকে রাজনীতির ঊর্দ্ধে উঠে সন্ত্রাসের মোকাবিলা করতে হবে।'

কালীপুজোর দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে উপস্থিত হয়েছিলেন রাজ্যপাল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে দীর্ঘক্ষণ ছিলেন সস্ত্রীক জগদীপ ধনখড়। মনে করা হয়েছিল, এবার হয়তো রাজ্য সরকার এবং রাজ্যের শাসক দলের সঙ্গে রাজ্যপালের মতবিরোধ কিছুটা কমবে। কিন্তু বাস্তবে যে পরিস্থিতি এতটুকু বদলায়নি, তা এ দিন ফের স্পষ্ট করে দিলেন জগদীপ ধনখড়।