করোনার কামড়ে  প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জর্জরিত বাংলা। একদিকে যেমন আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে অনেকে। আবার অন্যদিকে দীর্ঘ লকডাউনে রোজগার হারিয়ে আত্মহত্য়াও করেছে অনেকে। দিন আনা-দিন খাওয়া যারা বেঁচে আছে, তাঁদের আনলক ওয়ানের পরেও জীবন বদলায়নি। কারণ তাঁদের অনেকেরই জীবিকা লোকাল ট্রেনের সঙ্গে জড়িয়ে। তার উপর যাওবা লোকাল ট্রেন চলল, তাও করোনার কারণে সেই হকারদের স্টেশনের ভিতরে ঢোকার অনুমতি নেই। আর এর জেরেই বড়সড় বিক্ষোভ হল বুধবার দুপুরে শিয়ালদহে। 

'অবিলম্বে ট্রেনে ও স্টেশনে তাদের প্রবেশাধিকার দিতে হবে'

লকডাউনে দীর্ঘ ৮ মাস বন্ধ রোজগার। ট্রেন চলাচল নেই, তাই ওদের আয় নেই। চূড়ান্ত দূরাবস্থায় দিনযাপন হকারদের। দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলোর পেটে ভাত নেই। পরিবারের মুখে হাসি নেই। এই চরম দুর্দিনে তাই প্রতিবাদ ছাড়া কোনও বিকল্প নেই ওদের কাছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সদ্য চালু হয়েছে রেল চলাচল। কিন্তু তবু স্টেশনে ব্রাত্য হকাররা। মঙ্গলবার আইএনটিটিইউসি নেতা মানা চক্রবর্তীর নেতৃত্বে শিয়ালদহ স্টেশন চত্ত্বরে এক বিশাল অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হলেন শতাধিক হকার। দাবী একটাই, অবিলম্বে ট্রেনে ও স্টেশনে তাদের প্রবেশাধিকার দিতে হবে। ফিরিয়ে দিতে হবে চেনা ছন্দ। 

শিয়ালদহ স্টেশন চত্ত্বরে বিক্ষোভ

হকারদের উপর থেকে নিষধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবীতে, বুধবার স্টেশন মাস্টারের কাছে ডেপুটেশন জমা দেন মানা চক্রবর্তী ও অন্যান্য হকার ইউনিয়নের নেতারা। শিয়ালদহ স্টেশন চত্ত্বরে প্রদর্শন করা হয় বিক্ষোভ।