ছোট্ট মেয়ে, স্বামীকে ছেড়ে প্রেমিকের সঙ্গে নতুন ঘর বাঁধার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ৩৬ বছর বয়সি গৃহবধূ। কিন্তু  প্রেমিকের ফন্দি ঠিক কী, সেটা আন্দাজও করতে পারেননি তিনি। যখন বুঝলেন, ততক্ষণে অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছে। মাঝরাস্তায় দাঁড় করিয়ে গৃহবধূর নিয়ে আসা পাঁচ লক্ষ টাকা মূল্যের গয়না নিয়ে চম্পট দেয় সেই প্রেমিক। পরে অবশ্য তাকে বারুইপুর থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। 

একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিকের খবর অনুযায়ী, এমনই প্রতারণার শিকার হয়েছেন লেক টাউনের দক্ষিণদাঁড়ির বাসিন্দা এক গৃহবধূ। পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগে তিনি জানান, গতবছর অগাস্ট মাসে ফেসবুকে এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। কিছুদিন কথাবার্তার পর দু'জনে মোবাইল নম্বর বিনিময় করেন। গৃহবধূর দাবি, নিজেকে পুলিশ অফিসার বলে পরিচয় দিয়েছিল ওই যুবক। ধীরে ধীরে যুবকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে তাঁর। শেষ পর্যন্ত শিশুকন্যা এবং স্বামীকে ছেড়ে ওই যুবকের সঙ্গেই নতুন জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন ওই গৃহবধূ। 

বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকার সোনা এবং রুপোর অলঙ্কার নিয়ে বেরিয়ে আসেন ওই গৃহবধূ। ই এম বাইপাসে এক জায়গায় দেখা করেন দু' জনে। অভিযোগ, তখনই ওই প্রেমিক এসে বলে, গৃহবধূর শ্বশুরবাড়ির লোকজন সবকিছু জেনে গিয়েছেন। তাঁরা তার বাড়িতে গিয়ে গন্ডগোল শুরু করেছেন বলেও দাবি করে ওই প্রেমিক। তখন কিছুক্ষণের জন্য গৃহবধূকে ওই জায়গায় অপেক্ষা করতে বলে চলে যায় ওই যুবক। যাওয়ার আগে তার থেকে অলঙ্কারগুলি চেয়ে নেয় ওই প্রেমিক। সে যুক্তি দেয়, ই এম বাইপাসের ধারে অত মূল্যবান জিনিস নিয়ে গৃহবধূর একা দাঁড়িয়ে থাকা ঠিক হবে না। প্রেমিকের কথায় বিশ্বাস করে তার হাতে অলঙ্কার তুলে দেন ওই গৃহবধূ।

এর পর প্রায় চার ঘণ্টা ওই গৃহবধূ অপেক্ষা করলেও তাঁর প্রেমিক আর ফেরেনি। নিজের মোবাইল ফোনও বন্ধ করে দেয় সে। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে এর পর পুলিশের দ্বারস্থ হন ওই গৃহবধূ। 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মোবাইল ফোন ট্র্যাক করেই বারুইপুরের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় ওই যুবককে। ভুয়ো পরিচয়পত্র দিয়ে ওই যুবক মোবাইলের সিম নিয়েছিল বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা।