রুজি-রোজগারের কথা  ভাবতে যাওয়ার ভয়ানক পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে বাংলা। কদিন আগেই লকডাউনে ফুল বিক্রেতাদের ছাড়পত্র দিয়েছিল রাজ্য় সরকার। সম্প্রতি হাওড়া ফুল মার্কেটের ছবি দেখে চমকে উঠেছে রাজ্য়বাসী। সোশ্য়াল ডিস্ট্য়ান্সিং তো দূর, ঠেসাঠেসি করে চলছে বাজারের কাজ। সোশ্য়াল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে সেই ছবি।  

লকডাউনের পর 'রাজ্য়ে' কমপ্লিট লকডাউন, বাড়তে চলেছে কী কী বিধিনিষেধ.

মিষ্টির দোকানের পর একে একে লকডাউনে ছাড় দেওয়া হয়েছে ফুলের ব্যবসায়ীদের। বুধবার থেকেই খুলে গিয়েছে ফুলের পাইকারি বাজার। এমনকী পাড়ায় পাড়ায় ফুল নিয়ে বসতে পারছেন বিক্রেতারা। মঙ্গলবার নবান্নে লকডাউনেও ফুল বিক্রেতাদের  এই ছাড়পত্র দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজ্য়ে ১০টি করোনা হট স্পটে পুরোপুরি লকডাউন,সংক্রমণ রুখতে সিদ্ধান্ত নবান্নের.

মমতা বলেছেন, দুধচাষিদের মতো ফুল নষ্ট হোক সরকার তা চায় না।  তাই ফুলের ব্যবসায়ীদের ও এবার পণ্য পরিষেবার মধ্য়ে দেওয়া হল। এখানেই শেষ নয়। মুখ্য়মন্ত্রীর ছাড়পত্রের তালিকায় রয়েছেন বিড়ি শ্রমিকরাও। আপাতত তারাও একসঙ্গে সর্বোচ্চ  সাতজন ঘরের ভিতর বিড়ি বাঁধতে পারবেন। কিন্তু এই সব কিছুই তাদের সোশ্য়াল ডিস্ট্য়ান্সিং মেনে চলতে হবে। 

This is Howrah Flower Market - TODAY!Can’t blame them cuz the Mamata Govt has allowed it to operate! Such sad & dangerous State of affairs • Plz PlZ Bengal, defy your CM & #StayHomeIndia - the worst may be yet to come•Actually, the saying is “Prevention is better than Cure” pic.twitter.com/DmwYSqcaSA

— Babul Supriyo (@SuPriyoBabul) April 10, 2020 ""

 

মুখ্য়মন্ত্রী বলেন, লকডাউনের জেরে অসংগঠিত  শ্রমিকরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। সেকারণেই বিড়ি শ্রমিকদের লাকডাউনে ছাড় দেওয়ার সিদ্দান্ত নিয়ে পাজ্য় সরকার।তবে কোনওভাবেই সরকারের গাইড লাইনের বাইরে গিয়ে কিছু করা যাবে না। রাজ্য়ের বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, লকডাউনের জেরে অর্থনৈতিকভাবে খারাপ পরিস্থতির মুখে পড়েছেন বিড়ি শ্রমিকরা। রাজ্য়ে সবচেয়ে বেশি  বিড়ি শ্রমিক মুর্শিদাবাদেই দেখা যায়। যানবাহন বন্ধ থাকায় একেবারে থমকে গিয়েছে বিডি়র ব্যবসা। 

ফোন করলেই মোটা টাকায় হোম ডেলিভারি মদ, বেআইনিভাবে বিক্রি করতে গিয়ে পুলিশে জালে চক্র

কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, মুখ্য়মন্ত্রীর এই ছাড়পত্রের ফলে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ছে ফুল ব্য়বসায়ীদের মধ্য়ে। সোশ্য়াল ডিস্ট্য়ান্সিং না মানায় কার শরীরে মারণ রোগ বাসা বাধতে চলেছে তা কেউই বলতে পারবেন না। ইতিমধ্য়েই হাওড়ার ফুল মার্কেটের এই ভয়াবহ দৃশ্য় নড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা আসানসোলের বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়কে। নিজেই ওই বাজারের ভিডিয়ো টুইট করেছেন মন্ত্রী। সেখানে এই ঘটনাকে ভয়ান্ক ও দুঃখজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন বাবুল। এই ঘটনার জন্য় মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কেই 'কাঠগড়ায়' তুলেছেন তিনি। বিজেপি সাংসদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি  বজায়  থাকলে আরও ভয়াবহ দিন দেখতে হবে রাজ্য়বাসীকে।