রাজ্যের সঙ্গে সংঘাত আর বা বাড়িয়ে সরকারের তৈরি করে দেওয়া বাজেট বিবৃতিই বিধানসভায় পাঠ করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। বরং বাজেট বিবৃতি পাঠ করার পর কিছুটা প্রথা ভেঙেই বিধানসভার অধ্যক্ষের ঘরে পৌঁছন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ডেকে নেন তিনি। আধ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয় রাজ্যপালের। 

যদিও, রাজ্যপালের ভাষণের সময় এ দিনও এনআরসি এবং এনপিআর- এর বিরোধিতা করে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল বিধায়করা। তবে বিষয়টি নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি রাজ্যপাল। 

তিনি রাজ্য সরকারের তৈরি করে দেওয়া বাজেট বিবৃতিতে কিছু অদল বদল করতে পারেন বলে বৃহস্পতিবারই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। যদিও এ দিন বাজেট বিবৃতি পেশ করার সময় সরকারের তৈরি করে দেওয়া বয়ান অনুযায়ী এনআরসি আতঙ্কে রাজ্যে নিরপরাধ মানুষের মৃত্যুতে দুঃখপ্রকাশ করেন রাজ্যপাল। রাজ্যপাল বিবৃতিতে বলেন, 'বর্তমানে আমাদের দেশ এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। সংবিধানের মৌলিক মূল্যবোধ, নীতিগুলি বিপদের মুখে।'

নাগরিকত্ব আইন বা এনআরসি নিয়ে বার বারই রাজ্য সরকারের অবস্থানেকর বিরোধিতা করে প্রকাশ্যে সরব হয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। এ দিন অবশ্য এনআরসি নিয়ে বাজেট বিবৃতিতে রাজ্যের তৈরি করে দেওয়া বয়ানই হুবহু পাঠ করেছেন তিনি।

এ দিন রাজ্যপাল বিধানসভা ছেড়ে যাওয়ার সময় তাঁকে পুষ্পস্তবক দিয়ে অভিনন্দন জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে রাজ্যপাল যখন বিধানসভায় ঢুকছিলেন, তখন নাগরিকত্ব আইন, এনআরসি, এনপিআর বিরোধী টি শার্ট পরে বিধানসভার বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন তৃণমূল বিধায়করা। রাজ্যপাল অবশ্য সৌজন্য দেখিয়ে তাঁদের অভিবাদন জানান। 

পরে টুইট করে রাজ্যপাল লেখেন, 'সংবিধানের রীতি মেনেই আমি বাজেট বিবৃতি পাঠ করেছি। সংবিধানের প্রতি আমরা দায়বদ্ধতা আমি রক্ষা করেছি। এ ভাবেই মানুষকে আরও ভাল ভাবে সেবা করা যায় এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা করা যায়। আমি প্রশাসনকে অনুরোধ করব, এমন কিছু না করতে যে পদ্ধতি সংবিধান স্বীকৃত না।'