হায়দরাবাদের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আগাম সতর্ক কলকাতা পুলিশ। কলকাতা পুলিশের অন্তর্গত সমস্ত থানাকেই বিশেষ নির্দেশ পাঠালেন নগরপাল অনুজ শর্মা। তাতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, মহিলাদের সম্মানহানি বা নিরাপত্তাহীনতা সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ এলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে। এক্ষেত্রে থানার এলাকা বিচার করে পদক্ষেপ নিতে গড়িমসি করা চলবে না। 

হায়দরাবাদের পশু চিকিৎসককে গণধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় পুলিশের প্রাথমিক পদক্ষেপে গড়িমসির অভিযোগ তুলেছে নির্যাতিতার পরিবার। অভিযোগ, ওই পশু চিকিৎসক নিখোঁজ হওয়ার পরে তাঁর বোন আরজিআইএ থানায় যান। সেখানে অভিযোগ গ্রহণ না করে তাঁকে শামসবাদ থানায় পাঠানো হয়। যুক্তি হিসেবে বলা হয়, সিসিটিভি-তে শেষ বার তরুণীকে সেদিকেই যেতে দেখা গিয়েছিল। 

আরও পড়ুন- হায়দরাবাদে নৃশংসতার প্রতিবাদে সংসদে ধর্না, দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে তরুণীকে নির্যাতনের অভিযোগ

আরও পড়ুন- মেয়ের মতোই পুড়িয়ে মারা হোক ধর্ষকদের, দাবি হায়দরাবাদের নির্যাতিতার মায়ের

কলকাতা পুলিশের ক্ষেত্রেও এমন অভিযোগ আকছার ওঠে। অপরাধ যেখানে সংগঠিত হচ্ছে, তা কোন থানার এলাকার মধ্যে পড়ছে, তা নিয়ে দুই বা তার বেশি থানার টালবাহানাতেই অনেকটা সময় চলে যায়। তাতে অপরাধ আটকানোর সম্ভাবনা যেমন কমে, সেরকমই অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে যায় অভিযুক্তরা। 

নির্দেশিকায় নগরপাল স্পষ্ট জানিয়েছেন, মহিলাদের নিরাপত্তাহীনতা সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ এলেই এলাকা নির্বিশেষে পদক্ষেপ করতে হবে সব থানাকে। সতর্ক করা হয়েছে প্যাট্রোলিং পার্টি বা নজরদারি দলগুলিকেও। অভিযোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনও গড়িমসি করা চলবে না বলেও জানানো হয়েছে নির্দেশিকায়। 

এর  পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতেও মহিলাদের জন্য বিশেষ বার্তা দিয়েছেন নগরপাল অনুজ শর্মা। সেখানে তিনি লিখেছেন, কোনও রকম বিপদে পড়লেই ১০০, ১০৯১, ১০৯০ অথবা ১১২ নম্বরে ফোন করে সাহায্য চাইতে পারেন মহিলারা।