রক্ত পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক। রক্তে অক্সিজেনের-কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রা স্বাভাবিক। রেসপিরেটরি অ্যাসিডোসিস মার্কার -এর পরিমাপও রয়েছে স্বাভাবিক। তবু প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের শারীরিক অবস্থা এখনও সঙ্কটজনক বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। তাঁকে ভেন্টিলেশন থেকে বার করাটাই এখন চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

বুধবার গুরুতর শ্বাসকষ্ট-সহ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কথা কমিউনিস্ট নেতা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে ভর্তি করা হয়েছিল উডল্যান্ডস নার্সিংহোমে। সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র জানিয়েছিলেন বুদ্ধদেব-এ শারীরিক অবস্থা সঙ্কটজনক, চিন্তায় রেখেছে তাঁর শরীরে কার্বন-ডাই-অক্সাইড'এর মাত্রা। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় হাসপাতালের পক্ষ থেকে যে মেডিক্যাল বুলেটিন প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে অবশ্য বলা হয়েছে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রা ৫২। তিনি দীর্ঘদিনের সিওপিডি রোগী। এই রোগীদের ক্ষেত্রে এই মাত্রাই স্বাভাবিক। তবে সঙ্কট এখনও কাটেনি।

বুদ্ধবাবুকে এখনও বেশিরভাগ সময় ঘুমের ওষুধ দিয়েই রাখা হচ্ছে। তবে হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধীরে ধীরে ঘুমের ওষুধের মাত্রাও কমিয়ে আনা হবে। তাঁকে আপাতত ৩৫ শতাংশ ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়েছে। তবে, তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেই তাঁকে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট থেকে বের করে আনা হবে। সেটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে ভেন্টিলেটর-এর বাইরে এলেও তাঁকে দিতে হবে বাইপ্যাপ-এর সহায়তা। অবশ্য এই যন্ত্রের সহায়তা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বাড়িতে থাকাকালীনও নিতেন।

তাঁর এদিন সকালের রক্তপরীক্ষার রিপোর্টে একটি বিষয়েই খচখচানি রয়েছে, তা হল শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের এদিনের পরিমাপ এসেছে ৫.৪ শতাংশ। স্বাভাবিকভাবে থাকা উচিত ৪.৫ শতাংশ। এছাড়া শ্বেতকণিকা রয়েছে ১০৫০০। যা স্বাভাবিক অবস্থায় থাকার কথা ৬ থেকে ১১ হাজার। শ্বেতকণিকার মাত্রা একটু বেশিই রয়েছে বলে মনে করছেন চিকিত্‍সকরা। তাঁদের মতে, এর অর্থ হল বুদ্ধবাবুর শরীরে সংক্রমণ এখনও রয়েছে।