বার বার বলা সত্ত্বেও দিলীপের দাবিতে আমল দিল না মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের সরকার। উল্টে সোমবার ফের লকডাউনের তারিখ বদলালেও ৫ তারিখ লকডাউন  থাকছে রাজ্য়ে। অর্থাৎ অয়োধ্যায় রাম মন্দিরের পুজোর দিন বেরোতে পারবে না কেউ।

এদিনই রাম মন্দিরের ভূমি পুজোর দিন রাজ্য়ে লকডাউন তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য় সভাপতি। তিনি বলেন,আজকের মধ্য়েই পূর্ণ লকডাউনের তারিখ বদলাক মুখ্যমন্ত্রী।  নয়তো বাংলার মানুষ বুঝে যাবে, উনি ইচ্ছে করে হিন্দুদের মনে আঘাত দিচ্ছেন।  বিজেপি সভাপতি  দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, রাম মন্দিরের ভূমি পুজোর দিন লকডাউন করে রাজ্যের মানুষের ভাবাবেগের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে রাজ্য় সরকার। সারা ভারতে যখন ধুমধাম করে এই দিবস পালিত হবে, তখন পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তা করতে পারবে না। এটা অমানবিক। মানবতার বিরুদ্ধে লড়াই। 

যদিও বিকেল হতেই দেখা গেল ফের অগস্টের লকডাউনের তারিখ বদল করল মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের সরকার। চলতি মাসে কবে রাজ্য জুড়ে পূর্ণ লকডাউন থাকবে তা জানিয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করল নবান্ন। নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বলা হয়েছে, ৫ ও ৮ অগস্ট পূর্ব ঘোষণা মতোই লকডাউন থাকবে। তবে ১৬, ১৭, ২৩, ২৪ তারিখের পরিবর্তে ২০, ২১, ২৭, ২৮ এবং ৩১ তারিখ লকডাউন থাকবে।

আগে বলা হয়েছিল, অগস্ট মাসের ৫, ৮, ১৬, ১৭, ২৩, ২৪ এবং ৩১ তারিখ লকডাউন থাকবে রাজ্যে। এবারও সেই একই  কথা বলেছে রাজ্য় সরকার। নবান্নের বিজ্ঞ্প্তি বলছে, বিভিন্ন মহল থেকে লকডাউনের তারিখ বদল করার জন্য  আবেদন এসেছে। সেখানে উৎসব পার্বণের দিনের কথা উল্লেখ করেছেন তারা। তাই  লকডাউনের দিন বদল করা হয়েছে।

কদিন আগেই অগস্টে সপ্তাহে দুদিন করে পূর্ণ লকডাউনের দিন ঘোষণা করে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের সরকার। এই লকডাউন ঘোষণা করতে গিয়ে তিন বার হোঁচট খান মমতা। প্রথেম ঘোষণার পর নিজেই আবার দিন পরিবর্তন করেন। নবান্নে মমতা বলেন, ক্যালেন্ডারের সব উৎসবের ছুটির দিন দেওয়া ছিল না। তাই তিন লকডাউনের নতুন দিন  ঘোষণা করছেন। কিন্তু দেখা যায়, ইদের দিন ও তার পরের দিন পূর্ণ লকডাউন  থেকে বাদ পরলেও রাম মন্দিরের ভূমি পুজোর দিন লকডাউন রয়েছে। অর্থাৎ ৫ অগস্ট লকডাউন রয়েছে রাজ্য়ে।

এ প্রসঙ্গে রাজ্য় বিজেপির কান্ডারি বলেন, ৪ বার দিন পরিবর্তন করেছেন, ৫ বার করতে আপত্তি কোথায়? ৫ই অগস্ট সকাল ১১টা থেকে মন্দিরে মন্দিরে পুজো দেওয়া হবে। সেকারণে ওইদিন লকডাউন করা যাবে না। ওইদিন লকডাউন করলে রাজ্য সরকারকে ফল ভুগতে হবে। কারণ সন্ধ্যেবেলাও ভূমি পুজোর উৎযাপন। যেখানে প্রদীপ জ্বালিয়ে এই ভারতীয় অস্মিতা প্রতিষ্ঠায় সামিল হবে রাজ্যবাসী।