ঘুষ নিয়ে কোর্ট নির্দেশের প্রতারণা। এমনই গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন নিম্ন আদালতের এক বিচারক। অন্তর্তদন্তে এই অভিযোগের অনেকটা সত্যতার প্রমাণ পেয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। যার জেরে আপাতত সাসপেন্ড করা হয়েছে ফটিকচন্দ্র মণ্ডল নামে ওই বিচারককে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত হয়েছেন এক সেরেস্তাদারও। দেবাশিস শ্যাম নামে ওই সেরেস্তাদারের উপরেও নামতে চলেছে সাসপেনশনের খাড়া। 

সূত্রের খবর, চলতি বছরের মার্চ মাসের সাত তারিখে বিচারক ফটিকচন্দ্র মণ্ডল ৩৪ নম্বর অর্ডারে তাঁর দেওয়া নির্দেশে অনৈতিকভাবে কিছু অদল-বদল ঘটান। একটি টাইটেল স্যুটে-র ইনজাংশনে তিনি প্রথমে অ্যালাউ বলে নির্দেশ দেন এবং সেই মোতাবেক সার্টিফায়েড কপিও বেরিয়ে যায়। কিন্তু পরে ওই নির্দেশে অ্যালাউ শব্দটি-কে কেটে দিয়ে রিফিউজ শব্দ লিখে নিচে একটি নোট দিয়ে দেন। ফলে, প্রথমে ইনজাংকশন অ্যালাউড থাকলেও পরে তা একই নির্দেশনামায় রিফিউজ বলে রেকর্ড হয়ে যায়। এই নিয়ে  হুগলি জেলার জেলা বিচারকের কাছে একটি অভিযোগ নামা জমা হয় বিচারক ফটিকচাঁদ মণ্ডলের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছিল আরামবাগ আদালতে। সে সময় ফটিকচন্দ্র মণ্ডল আরামবাগ আদালতের সিভিল জাজ সিনিয়র ডিভিশনে কর্মরত ছিলেন। তাঁর সঙ্গে এই ঘটনায় নাম জড়ায় সেরেস্তাদার দেবাশিস শ্যাম-এর। জেলা বিচারক অভিযোগনামা-কে কলকাতা হাইকোর্টে পাঠিয়ে দেন। 

গত কয়েক মাস ধরে অন্তর্তদন্ত চালায় কলকাতা হাইকোর্ট। অভিযোগনামায় ফটিকচন্দ্র মণ্ডলের বিরুদ্ধে ঘুষ নিয়ে নির্দেশে প্রতারণা করার অভিযোগ ছিল। কলকাতা হাইকোর্টের অন্তর্তদন্তেও ঘুষ নিয়ে নির্দেশে অদলবদল করার বিষয়টি উঠে আসে। ফটিকচন্দ্র মণ্ডলের বিরুদ্ধে এমনকিছু প্রমাণ এবং তথ্য মিলেছে যাতে ঘুষ নিয়ে নির্দেশ অদলবদল করার বিষয়টি সারবত্তাও মিলেছে। ফলে, ফটিকচন্দ্র মণ্ডল-কে আপাতত সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত গৃহীত করে কলকাতা হাইকোর্টে। সেই মোতাবেক শুক্রবার বিচারক ফটিকচন্দ্র মণ্ডল-কে সমস্ত দায়িত্ব থেকে সাসপেন্ড করা হয়। এই মর্মে একটি নির্দেশিকা তাঁর কাছেও পৌঁছে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। বর্তমানে ডায়মন্ড হারবার আদালতের সিভিল জাজ সিনিয়র ডিভিশনে কর্মরত রয়েছেন তিনি।