আগামী সোমবার নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে মিছিল ও সমাবেশ করবে তৃণমূল। ১ জানুয়ারি পালন করা হবে 'নাগরিক দিবস'। কলকাতায় মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পর একগুচ্ছ কর্মসূচি ঘোষণা করলেন তৃণমলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, 'বনধ সমর্থন করি না। গণতান্ত্রিক পথে শান্তিপূর্ণভাবে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।  আন্দোলনের জন্য স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যেন ব্যাহত না, সেদিকে নজর রাখতে হবে।'

নাগরিকত্ব আইন বিরোধী আন্দোলনের সূচনাপর্বে  রীতিমতো তাণ্ডব চলেছে রাজ্যের সর্বত্র। গত সোমবার থেকে পথে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরপর তিনদিন কলকাতায় মিছিলে হেঁটেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার রানী রাসমনি রোডের সমাবেশ থেকে নাগরিকত্ব আইন নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের তত্ত্বাবধানে গণভোটের দাবি তোলেন মমতা। আন্দোলনকে কীভাবে আরও তীব্র করে তোলা যায়, তার রূপরেখা ঠিক করতে শুক্রবার কলকাতায় দলের শীর্ষ নেতা ও মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন তৃণমূলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে বছরের শেষ সাতদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি। তৃণমূল সুপ্রিমোর ঘোষণা, ২৩ ডিসেম্বর অর্থাৎ আগামী সোমবার রাজ্যের সবকটি মহকুমায় নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে মিছিল করবেন দলের কর্মীরা। ২৪ তারিখ মিছিল হবে কলকাতায়। ২৬ তারিখ পথে নামবে শাসকদলের ট্রেড ইউনিয়ন। ২৭ তারিখ হুগলির সিঙ্গুরে মিছিল করবে তৃণমূল কংগ্রেস।  ২৮ ও ২৯ তারিখ রাজ্যের সবকটি বিধানসভা এলাকায় পালিত হবে ধরনা কর্মসূচি।  ২৫ ডিসেম্বর ক্রিসমাস উপলক্ষ্যে অবশ্য কোনও কর্মসূচি থাকছে না।  ১ জানুয়ারি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাদিবস। সেদিন রাজ্যের সর্বত্র তৃণমূল কর্মীদের নাগরিক দিবস পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  তার প্রস্তূতি চলবে ৩০ ও ৩১ ডিসেম্বর।

স্রেফ আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করাই নয়, এদিন দেশে শান্তিরক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে হস্তক্ষেপ করার আর্জিও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে  তাঁর বার্তা, 'পেশিশক্তি কাছে নয়, গণতন্ত্রের কাছে মাথা নত করতে হয়। দেশে শান্তিরক্ষার স্বার্থে অবিলম্বে নাগরিকত্ব আইন প্রত্যাহার করুন।'  উল্লেখ্য, বিতর্কিত এই আইনের প্রতিবাদে দেশজুড়ে কিন্তু আন্দোলন তীব্র হচ্ছে। বিভিন্ন প্রান্তে পথে নেমেছেন বিশিষ্টজনেরাও।