দলের সময়টা ভাল যাচ্ছিল না। জয় শ্রীরাম অস্ত্রে বিজেপি তাঁকে বিঁধেছিল ভালই। রেগে গিয়ে রাস্তায় নেমে তেড়ে গিয়েছিলেন মমতা। অতঃপর ঘটনাপ্রবাহ তাঁকে আরও কঠিন যুদ্ধের মুখে ফেলেছে। লড়াইয়ে নেমে বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বলছে অস্ত্র বদলে ফেলেছেন তিনি।  নতুন ওষুধে কাজও হচ্ছে। কী সেই ওষুধ? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন ভাই মন্ত্রেই মন জিততে চাইছেন মমতা।

গত ১৪ জুন কাঁচরাপাড়ার কর্মীসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার্তা দেন, " বখাটে ছেলেদের বলবেন দলে আসুন। দরকার হলে ওদের কাজ দিয়ে দেব।"

এই নিয়ে টিপ্পনী কেটে মন্ত্বব্য করেছিলেন, ভাল ছেলেদের তিনি আর পাশে পাচ্ছেন না। বখাটে ছেলেদের ওপর ভরসা করতে হচ্ছে। কিন্তু সত্যিই কি তাই?

গত সোমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাতদিনের কর্মবিরতিরর পরে জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে নবান্নে বৈঠক করেন। দুই ঘণ্টায় মমতা হেলায় মনজয় করেন তাঁদের। সাতদিনের অভিমান গলে জল হয়ে যায়। এবার মমতার তাস ছিল 'লক্ষ্মীছেলে'। ডাক্তাররা যখন তাঁদের ওপর মামলার  সম্ভাবনা নিয়ে শঙ্কিত, অথবা যখন আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবিত, মমতা বারবারই তাঁদের প্র‌শমিত করেছেন এই শব্দে। তাঁর বডি ইমেজটাই ছিল এমন, যেন স্নেহের ভাইদের সঙ্গে কথা বলছেন। কাজও হয়েছে তাতে।  এমনকী তাঁর এই লক্ষ্মীছেলেই হয়েছে ডাক্তারদের মন্ত্র। মমতা তাঁদের কথা রাখতে আহত জুনিয়র ডাক্তার পরিবহকে দেখতেও গিয়েছেন।

সব দেখে শুনে সমীক্ষকরা বলছেন,অনেক প্রশমিত মমতা নিজে। ভাই মন্ত্রটিতেই আপাতত সব বাধা জয় করতে চাইছেন। সে দলীয় সংঘাত হোক বা বিজেপিতে যোগদান। আর হ্যাঁ, শুধু বখাটে নয়, কথা দিয়ে লক্ষ্মীছেলেদের মনজয় করতে পারেন তিনি তা তো গতকালই প্রমাণ হল।